কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য ১৯৯তম পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাতকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত হওয়ায় প্রতি বছরের মতো এবারও প্রশাসনের সর্বোচ্চ সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিংয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ডা. এস এম ফরহাদ হোসেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি জানান, সকাল ১০টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং এ উপলক্ষে প্রায় ১২০০ পুলিশ সদস্য মাঠসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করবেন।
পুলিশ সুপার কঠোরভাবে নির্দেশ দেন, দায়িত্বে থাকা কোনো সদস্য ডিউটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। তিনি সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে শোলাকিয়ায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের জন্য পুলিশ লাইনস মসজিদে পৃথক ঈদের জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের মান নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকে বিশেষ তদারকি টিম নিয়োজিত থাকবে, যারা সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।
বিকাল ৩টায় শুরু হওয়া ব্রিফিংটি শেষ হয় বিকাল ৪টা ৭ মিনিটে। সমাপনী বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ ধরনের আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গৌরবের বিষয়। তাই প্রত্যেক সদস্যকে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শোলাকিয়ার এবারের ঈদ জামাত শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুকিত সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ মাহমুদুল ইসলাম তালুকদার (পিপিএম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হোসেনপুর সার্কেল) মো. তোফাজ্জল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাজিতপুর সার্কেল) তৃপ্তি মণ্ডলসহ বিভিন্ন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবং জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উপস্থিত ছিলেন।





