পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয়ে ছুটি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গোপাল চন্দ্র রায় নামে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত গোপাল চন্দ্র রায় উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের ২৫ নম্বর গুয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রেণি কার্যক্রম সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলমান থাকার কথা থাকলেও দুপুর ১টায় বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঈদের পর প্রথম ১০টি শনিবার খোলা রাখার নির্দেশ দেয়। ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
কিন্তু ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে শনিবার গুয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দেওয়া হয়। ছুটির পর বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং প্রধান শিক্ষকসহ অধিকাংশ শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
তবে সহকারী শিক্ষক মো. মাহমুদ হোসেনকে বিদ্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুপুর ১টার পর নামাজের জন্য আমি বাইরে যাই। পরে এসে দেখি প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে চলে গেছেন। নির্ধারিত সময় শেষ না হওয়ায় আমি বিদ্যালয়ে অবস্থান করছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে আগাম ছুটি দিলে আমাদের সন্তানদের পড়াশোনায় মারাত্মক ক্ষতি হবে। নিয়মিত ক্লাস না হলে তারা পাঠ্যসূচি শেষ করতে পারবে না, পরীক্ষাতেও খারাপ ফলের আশঙ্কা থাকবে। আমরা চাই, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণ সময় ক্লাস নিশ্চিত করা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র রায়ের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






