ঢাকা   রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

দেশে ৩৩ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, খুলনায় ৬টি অচল ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৪ এএম

দেশে ৩৩ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, খুলনায় ৬টি অচল ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে পড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা অঞ্চলের ১০টি কেন্দ্রের ৬টিই অচল হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন নেমে এসেছে অর্ধেকের নিচে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনজীবন ও শিল্পখাতে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা অঞ্চলে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানির খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট, মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট এবং রূপসা ১০৫ মেগাওয়াটসহ মোট ৬টি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এতে উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর মাহফুজুর রহমান বলেন, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্র চালু রাখা যাচ্ছে না। “আমাদের হাতে জ্বালানি নেই, এনএলডিসি থেকেও পর্যাপ্ত চাহিদা আসছে না। জ্বালানি পেলেই উৎপাদনে ফিরতে পারব,” যোগ করেন তিনি।

এদিকে, কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে গেলেও তা পুরো অঞ্চলের চাহিদা মেটাতে পারছে না।

গ্রীষ্ম মৌসুমে খুলনা অঞ্চলে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন ঘাটতির কারণে অনেক এলাকায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। শহর ও গ্রাম উভয় জায়গাতেই এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ওজোপাডিকো সীমিত সরবরাহের মধ্যে লোডশেডিং চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিরুজ্জামান জানান, চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রাখতে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের অপচয় রোধে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান ও শপিংমল বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট কেবল অভ্যন্তরীণ নয়; এর পেছনে রয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতা। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম জানায়, দেশের এলএনজি আমদানির ৬৮ থেকে ৭৫ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। এই রুটে বিঘ্ন ঘটলে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।

সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যেই অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। গ্যাস ও তেলের ঘাটতিতে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অব্যবহৃত থাকছে। শিল্প উৎপাদন কমে গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ, যা শ্রমবাজারেও চাপ সৃষ্টি করছে।

ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফার্নেস অয়েলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ১৮ টাকার বেশি হলেও সৌরবিদ্যুতে তা প্রায় অর্ধেক। এই বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন।

প্রতিবেশ ও পরিবেশ সুরক্ষা কমিটির সদস্য গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, “বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। সময়মতো নীতিগত পরিবর্তন না আনলে ভবিষ্যতে সংকট আরও ভয়াবহ হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের কোটি কোটি পরিবারের ছাদ ব্যবহার করে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পাশাপাশি সৌর সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করলে জ্বালানি খাতে বড় সাশ্রয় আসতে পারে।

তাদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সৌর সরঞ্জামে শুল্ক-ভ্যাট প্রত্যাহার, বাড়িভিত্তিক সৌর প্যানেলে ভর্তুকি, দ্রুত সৌর পার্ক অনুমোদন এবং বিদ্যুৎ খাতে বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন।

সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে লোডশেডিং আরও বাড়বে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন