টানা ৩৫ দিনেও অজ্ঞাতপরিচয় রোগী খোকন মিয়ার পরিবারের কোনো সন্ধান মেলেনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও মানবিক সংগঠনগুলো কাজ চালিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো স্বজনের সন্ধান মেলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া একমাত্র “বেওয়ারিশ লাশ দাফন ও অজ্ঞাত রোগীদের চিকিৎসা সেবার সংগঠন” ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর উদ্যোগে খোকন মিয়ার দেখভাল ও চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিতই সংগঠনের সদস্যরা তাকে দেখভাল করছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন গোসল করাসহ নতুন লুঙ্গি, গেঞ্জি ও গামছা দেওয়া হয়েছে ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ শুক্রবার দুপুর আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে বাম পায়ে গুরুতর সংক্রমণ (সেলুলাইটিস) নিয়ে খোকন মিয়াকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অর্থোপেডিক্স বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত তার সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। খোকন মিয়ার আনুমানিক বয়স প্রায় ৫০ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে না পারায় তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অস্পষ্টভাবে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বাড়ি কুমিল্লা জেলায় এবং তাঁর পিতার নাম ‘বশির’। তাঁর কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের করুইন গ্রামের মৃত বশির উদ্দিন ও মধুবালা বিবির সন্তান। তবে বিষয়টি এখনো যাচাই করে নিশ্চিত করা যায়নি।
জানা গেছে, খোকন মিয়া মানসিকভাবে অসুস্থ এবং সম্প্রতি এক দুর্ঘটনায় তার বাম পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার অভাব ও পরিবারের অনুপস্থিতিতে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে।
পরিবারের সন্ধানে গত রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন,“খোকন মিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সম্ভাব্য ঠিকানায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তার পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন,“আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। স্থানীয়ভাবে এবং সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সমন্বয় করে খোকন মিয়ার পরিবারের সন্ধান বের করার চেষ্টা চলছে। কেউ যদি তাকে চিনে থাকেন, তাহলে দ্রুত যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “খোকন মিয়া সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার চিকিৎসা ও সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছি। তবে তার পরিবারের সন্ধান পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। সমাজের সচেতন মানুষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে দ্রুত তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”






