ঢাকা   রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

মহেশপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক আওয়ামী লীগ নেতাকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি, আটক ৩

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১০:০৫ পিএম

মহেশপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক আওয়ামী লীগ নেতাকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি, আটক ৩

ঝিনাইদহের মহেশপুরে সাজ্জাদুল ইসলাম নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটকের পরে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা প্রকাশ না করার শর্তে ভিকটিম নারীর স্বামী ও তার দুই সহযোগী অভিযুক্তের কাছ থেকে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দুই লাখ টাকার একটি চেক হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী বাদী হয়ে তিন জনের নামে মহেশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পরে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার মহেশপুর থানা পুলিশ তাদের আটক করে। আটকরা হলেন- মহেশপুরের খালিশপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহবুবুর রহমান, একই গ্রামের মৃত মঈনুদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান ছোট ও মহেশপুরের কুরিপোল গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিম আলীর ছেলে মো. ফিরোজ।

এদিকে পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ভিকটিমের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ খালিশপুর বাজারের পাশে একটি বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ওই বাড়ির গৃহবধূকে ধর্ষণের করেন। ওই নারীর চিৎকারে স্থানীয় দুইজন ঘটনাস্থলে এসে আওয়ামী লীগের ওই নেতাকে আটক করেন। পরে ভিকটিমের স্বামী ও দুই যুবক মিলে আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে ঘটনা চেপে রাখতে সম্মত হন। কথা মতো, আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদুল ইসলাম ওই নারীর স্বামী ও দুই যুবককে এক লাখ টাকা দেন। পরে তারা আওয়ামী লীগ নেতাকে জিম্মি করে আরও টাকা দাবি করলে তিনি দুই লাখ টাকার একটি চেক দেন।

ঘটনার চার দিন পরে শনিবার সাজ্জাদুল ইসলামকে আসামি করে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন ভিকটিম নারী। মহেশপুর থানার মামলা নম্বর ১৬/০৯.০৫.২০২৬। লিখিত অভিযোগের পরে বেলা আড়াইটার দিকে আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে একইদিন আটক আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী তাহমিনা শম্পা বাদী হয়ে তার স্বামীকে মারপিটের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি ও আদায়ের অভিযোগ করেন। মহেশপুর থানার মামলা নম্বর ১৮/১০.০৫.২০২৬। আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের পরে তিন জনকে আটক করে পুলিশ।

আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী তাহমিনা শম্পা সাংবাদিকদের জানান, গত ৫ মে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা নিয়ে তার স্বামীকে ওই বাড়িতে ডেকে নেয় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকারী নারী। আমার স্বামীকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তার কাছ থেকে ব্যাংক চেক লিখে নেয় প্রতারকরা। শনিবার (৯ মে) সেই চেক আনতে গেলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।

তাহমিনা শম্পা আরও জানান, কিছুদিন আগে ওই নারীর বাড়ি থেকে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনায় ওই নারী কারাগারেও ছিল।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকারী নারী জানান, বাড়িতে একা থাকার সুযোগে আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ তাকে হেনস্থার চেষ্টা করে। তখন ভিকটিম নারী চিৎকার করলে বাড়ির সামনে দোকানে থাকা দুইজন যুবক এসে সাজ্জাদুল ইসলামকে আটক করে। পরে ভিকটিমের স্বামী এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। ওই সময় বিষয়টি কাউকে না জানানোর শর্তে ভিকটিমের স্বামী ও তার দুই সহযোগী অভিযুক্ত সাজ্জাদুল ইসলামের কাছ থেকে টাকা ও ব্যাংকের চেক নেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পরে ভিকটিম নারী, তার স্বামী ও স্বামীর সহযোগীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদুল ইসলাম কয়েক দফা মীমাংসার চেষ্টা করেন। গোপনে একাধিকবার সালিসও করেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদি হাসান বলেন, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা অভিযুক্তকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাটি যেমন সত্য, অভিযুক্ত সাজ্জাদুল ইসলামকে জিম্মি করে টাকা আদায় ও চেক নেয়ার ঘটনাও সত্য বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। চাঁদাবাজি ও আদায়ের অভিযোগের পরে তিন জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!