ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুপুয়া এলাকায় অবস্থিত সিপি বাংলাদেশ হ্যাচারির বর্জ্যে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় রাতের আঁধারে রক্তমাখা ডিমের খোসা, মৃত ও অপরিপক্ক মুরগির বাচ্চাসহ বিষাক্ত বর্জ্য মহাসড়কের দু’পাশ, কৃষিজমি, খাল ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ফেলে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, পথচারী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সিপি বাংলাদেশ হ্যাচারিতে লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদন শেষে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সৃষ্টি হলেও প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ডাম্পিং বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা নেই। ফলে গভীর রাতে পিকআপ ভ্যানে করে এসব বর্জ্য উপজেলার বালুজুড়ি, ফালগুনকরা, নানকরা, আমজাদের বাজার, সুজাতপুর, চিওড়া ও দক্ষিণ ডিমাতলী হাফেজিয়া মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় ফেলে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশ ও বিভিন্ন খোলা স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে রক্তমাখা ডিমের খোসা ও মৃত বাচ্চার বর্জ্য। তীব্র দুর্গন্ধে ওইসব এলাকায় দাঁড়ানোই দায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী দূরপাল্লার যাত্রী ও পথচারীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেককে নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে দেখা যায়।
দক্ষিণ ডিমাতলী গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক আশিকুর রহমান বলেন, মহাসড়কের পাশে এসব বর্জ্য ফেলার কারণে চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে গেছে। দুর্গন্ধে পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ অমানবিক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে নির্জন ও জনবহুল এলাকায় সুযোগ বুঝে এসব বর্জ্য ফেলে যাচ্ছে হ্যাচারির লোকজন। গভীর রাতে এ কাজ হওয়ায় অধিকাংশ সময় দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রতিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
দক্ষিণ ডিমাতলী, সুজাতপুর ও নানকরা এলাকার বাসিন্দা ফজলুল হক, কবির হোসেন, সাদেক মিয়া, সুমন ও সফিউল ইসলাম জানান, দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণে এলাকার পরিবেশ দিনদিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। তারা বলেন, আত্মীয়-স্বজন এখন ঈদেও বাড়িতে আসতে চান না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সিপি বাংলাদেশ হ্যাচারির ম্যানেজার রুবেল রায় বলেন, আমাদের নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণ করা হয়। তারা কোথায় বর্জ্য ফেলে, সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল্লাহ আল-মামুন সাগর বলেন, প্রতিটি হ্যাচারির নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকা বাধ্যতামূলক। পরিবেশ দূষণ হয় এমন কোনো কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী জানান, এসব বর্জ্য থেকে সৃষ্ট দুর্গন্ধ ও জীবাণুর কারণে শ্বাসকষ্ট, এলার্জি, ফুসফুসের সংক্রমণসহ নানা রোগ হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব বলেন, জনবহুল এলাকায় শিল্প বর্জ্য ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






