কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং গ্রামে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় ছৈয়দা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৬ মে) রাত ৮টার দিকে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টাইপালং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছৈয়দা বেগম স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির আহমদের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয়তু শেখ হাসিনা’ লেখা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ ও জিডি করেন। শনিবার সন্ধ্যায় ছাত্রদল নেতা হাসেম সিকদার জিসান এ বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলে তাতে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী মো. ইউনুস।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ইউনুসকে আটক করে মারধর করেন। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে স্থানীয় এনজিওকর্মী এস এম ইমরানও হামলার শিকার হন। পরে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে ইমরানের মা ছৈয়দা বেগম আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে এস এম ইমরান অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আবদুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, ছালাম সিকদার এবং ছাত্রদল নেতা জিসান, অ্যাম্বুলেন্স চালক শামসুল আলমসহ আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নেন। এতে তাঁর পরিবারের আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। তাঁদের দাবি, ছৈয়দা বেগম অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন এবং পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, “রাতে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তদন্তে দলের কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উখিয়া থানার ওসি জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রোববার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান বলেন, ফেসবুক পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, ছাত্রদল নেতা হাসেম সিকদার জিসানকে ঘিরে এলাকায় ২০২৪ সালে ৫ জুলাই এর পর থেকেই নানা বিতর্ক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






