গাইবান্ধার সদর উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক এক যুবককে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের বিঞ্চপুর গ্রামের একটি লিচুবাগানে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী সাদুল্লাপুর উপজেলার এক ব্যক্তি বিঞ্চপুর গ্রামে একটি লিচুবাগান কিনে নেন। তার ছেলে বাগানটি দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, দুপুরে ওই শিক্ষার্থী বাগানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে লিচু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাগানের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।
এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে তার দাদা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে সাহাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে গ্রাম পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতেই বিষয়টি আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে সদর থানা পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক এসে একটি ফাঁকা কাগজে মুচলেকা নিয়ে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেন।
সাহাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান সরকার বলেন, স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটক করে তার কাছে নিয়ে এলে তিনি থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। তিনি দাবি করেন, মুচলেকায় ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ স্বাক্ষর করেননি এবং তিনিও তাতে স্বাক্ষর করেননি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি আপোষে মীমাংসার জন্য কয়েক দফা আলোচনা হয়েছিল। এমনকি মেয়ের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সুমঙ্গল জানান, ‘ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাই চেয়ারম্যান মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। দেশের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এ ধরনের অপরাধীকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘অবশ্যই আমরা এসব বিষয়ে সতর্ক আছি।’
বার্তা বাজার/এস এইচ






