ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ ৬০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ১৫টি বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের বিএলকে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এছাড়া গুরুতর আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, উমেদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান এবং ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে একাধিকবার এ বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে আব্বাস মণ্ডল, অংকন, রবিউল হোসেন, তাসিম শেখ, গিয়াস উদ্দিন, হাবিব মোল্যা, সাকিব হোসেন, লিয়াকত আলী, আকিজ মোল্যা, আনিচ মোল্যা, সানজু, আব্দুল কাদের, মোশারফ হোসেন, খায়রুল ইসলাম ও সাহিদুর ইসলামসহ অন্তত ৬০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে ১৫টি বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে জানা গেছে।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান দাবি করেন, কফিল উদ্দিনের সমর্থকরা প্রথমে তার পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায়। পরে তার সমর্থকরা আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন।
অন্যদিকে ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিন অভিযোগ করেন, পূর্ব বিরোধের জেরে মতিয়ার রহমানের সমর্থকরা তার অনুসারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
এদিকে একই দিনে উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের শিংনগর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পৃথক সংঘর্ষে আলামিন ও হাসানুর রহমানসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে আলামিনের একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শৈলকুপা থানার ওসি (তদন্ত) শাকিল আহমেদ বলেন, ‘উমেদপুর ইউনিয়নের বিএলকে এলাকায় সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’






