ঢাকা   সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

স্কুলের গাছ বিক্রির অভিযোগে বিএনপির ২ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:২৮ পিএম

স্কুলের গাছ বিক্রির অভিযোগে বিএনপির ২ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট তৈরি করার অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার (৭ জুন) বিকালে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কৃতরা হলেন- উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি কাইয়ুম সরকার ও ফুলকী ইউনিয়নের আইসড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইউপি সদস্য বাবুল সরকার। তারা সম্পর্কে ভাই।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নের আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২২টি গাছ বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ৩০ জন ঠিকাদার দরপত্র ক্রয় করেন। গত ৩ জুন উপজেলা পরিষদ হলরুমে দরপত্র ক্রয় করা ঠিকাদারদের মধ্যে খোলা ডাক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা মূল্যে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সংগ্রাম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়। কিন্তু টেন্ডারের আগেই বিএনপি নেতা কাইয়ুম সরকার ও তার ছোট ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল সরকারসহ বেশ কয়েকজনে মিলে দরপত্র ক্রয় করা ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে সিন্ডিকেট তৈরি করেন। এ কারণে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের গাছগুলোর মূল্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খোলা ডাকে মাত্র এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ডাক ওঠায়। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা বঞ্চিত হয় কর্তৃপক্ষ। খোলা ডাকের পর সমঝোতায় অংশ নেওয়া কাইয়ুম সরকার ও বাবুল সরকারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছে বলে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার একপর্যায়ে উপজেলা বিএনপি গত ৬ জুন কাইয়ুম সরকার ও বাবুল সরকারকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে।

বিদ্যায়য়ের পুরোনো ২২টি গাছের দাম স্থানীয় ব্যাপারীরা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বলেছিল। কিন্তু কয়েকজন বিএনপি নেতার সমন্বয়ে সমঝোতার ফলে টেন্ডারে এত কম টাকায় গাছগুলো বিক্রি হয়।
এ কারণে কর্তৃপক্ষ মোটা অংকের টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহিদুর রহমান বলেন, ‘অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে টেন্ডারটি বাতিল চেয়ে পুনরায় টেন্ডার দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে।’

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা কাইয়ুম সরকার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এলাকায় গ্রুপিং থাকায় ষড়যন্ত্র করে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। শুনেছি দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তবে এখনও কোনও চিঠি পাইনি।’

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর বলেন, ‘একটি বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট তৈরি করার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় বিএনপির ওই দুই নেতাকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।’

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!