‘বাড়তি ভাড়া’ আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের হাতাহাতির ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা। এতে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) চমেক হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি মতবিনিময় সভায় অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করে নতুন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
‘চমেক হাসপাতালের রোগী ও লাশ পরিবহনের নীতিমালায় বর্ণিত অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া পুনর্মূল্যায়ন ও যৌক্তিককরণ’ শীর্ষক এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সভায় মেয়র কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কোনোভাবেই বেশি টাকা আদায় করা যাবে না। কেউ যদি অতিরিক্ত ভাড়া নেয়, তবে সেই টাকা মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই ভুক্তভোগীকে ফেরত দিতে হবে।’
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, সবকিছুর খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা আগের ভাড়ার ওপর ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিলেন। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর ৩০ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স মেডিকেলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে কারও নিজস্ব গাড়ি থাকলে তারা রোগী ও মরদেহ পরিবহন করতে পারবেন।’
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আমান উল্লাহ চৌধুরী জানান, আজ সোমবার থেকেই এই নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে। আগামী তিন মাস এই ভাড়া বহাল থাকবে এবং এরপর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আবারও তা পর্যালোচনা করা হবে। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ১৮ জুন চমেকের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এদিকে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার তীব্র যানজট নিয়ন্ত্রণে চমেক রোডের অলি খাঁ মসজিদ থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়কে কোনো অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং না করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল, আশেপাশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে রোগীরা আসেন। রাস্তায় গাড়ি রেখে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও যানজট সৃষ্টি করতে কাউকেই দেওয়া হবে না। অ্যাম্বুলেন্সগুলো এখন থেকে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার মুখে (পপুলার ডায়াগনস্টিক সংলগ্ন) এবং জাতিসংঘ পার্ক সংলগ্ন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের খালি জায়গায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাখতে হবে।’
এর আগে রোববার সকালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী যাওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ে ‘সিন্ডিকেটের’ মাধ্যমে দুই থেকে তিনগুণ বাড়তি টাকা দাবির অভিযোগ ওঠে।
এর জের ধরে বিকেলে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেট এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর ঠিক পরদিনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মালিক সমিতি মিলে ভাড়া বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিল।
বার্তা বাজার/এস এইচ






