বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবন, নিরাপত্তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন সাংগঠনিক পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নীলফামারী জেলা সদস্য সচিব ডাঃ মোঃ কামরুল ইসলাম দর্পনের তত্ত্বাবধানে “সীমান্তে অধিবাসী ও সার্বভৌম রক্ষা বিষয়ক সম্পাদক” নামে একটি নতুন পদ গঠনের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি নীলফামারী জেলার সীমান্তঘেঁষা ডিমলা উপজেলায় শাহ আজিজুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং মোঃ রাশেদ ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৩৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করেন নীলফামারী জেলার আহ্বায়ক মোঃ আব্দুল মজিদ ও সদস্য সচিব ডাঃ মোঃ কামরুল ইসলাম দর্পন। এই আহ্বায়ক কমিটিতে নতুন পদের নাম সীমান্তে অধিবাসী ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা বিষয়ক সম্পাদক’ মোঃ গোলাম মোস্তফাকে ঘোষণা দেন সদস্য সচিব ডাঃ মোঃ কামরুল ইসলাম দর্পন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা, চোরাচালান, নদীভাঙন, ভূমি বিরোধ এবং উন্নয়ন বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো সীমান্তবাসীর জীবনে প্রভাব ফেলে। ফলে এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশেষায়িত সাংগঠনিক পদ সৃষ্টি একটি নতুন রাজনৈতিক চিন্তার প্রতিফলন হতে পারে।
ডাঃ মোঃ কামরুল ইসলাম দর্পন বলেন, সীমান্ত অঞ্চলের জনগণের নানা সমস্যা, সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠী দেশের প্রথম সারির নাগরিক হলেও তাদের অনেক সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে যথাযথভাবে আলোচিত হয় না। আমরা চাই সীমান্তবাসীর জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো রাজনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠুক। এই নতুন সৃষ্ট পদের ব্যাপারে জাতীয় নাগরিক পার্টি ( এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক মোঃ সারজিদ আলম ভাইকে অবগত করলে। তিনি এই নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়টি স্বাগত জানান এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা প্রশংসা করেন। যে সকল উপজেলা সীমান্তবর্তী সেখানে এই পদ সৃষ্টর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন এই পদ কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক কাঠামো এবং মাঠপর্যায়ে কর্মকাণ্ডের ওপর। তবে সীমান্তকেন্দ্রিক বিষয়কে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






