ঢাকা   বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

অবহেলা আর অযত্নে ‘মিনি স্টেডিয়াম’ যেন ময়লার ভাগাড়, খেলাধুলা বন্ধের উপক্রম

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

অবহেলা আর অযত্নে ‘মিনি স্টেডিয়াম’ যেন ময়লার ভাগাড়, খেলাধুলা বন্ধের উপক্রম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় তরুণ সমাজ ও ক্রীড়ামোদিদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নির্মিত মির্জাপুর মিনি স্টেডিয়ামটি এখন চরম অবহেলা ও অযত্নে পড়ে রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, চারপাশের নোংরা পরিবেশ এবং মাঠের ভেতরে ব্যক্তিগত কাজের মালামাল রাখায় স্টেডিয়ামটি এখন প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় ক্রীড়া চর্চা, ক্ষোভ বাড়ছে খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের প্রধান ভবন ও শৌচাগারটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় চারপাশে জঙ্গল ও আগাছা জমে গেছে। শৌচাগারগুলো ব্যবহারের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যা খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় ভোগান্তির কারণ। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, স্টেডিয়ামের পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ পাশটিকে স্থানীয়রা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার ডাম্পিং স্টেশন বানিয়ে ফেলেছেন। বাতাসে সেই আবর্জনার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো মাঠজুড়ে। এছাড়া মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণটি ও পুরাতন জরাজীর্ণ ক্রীড়া সংস্থার ভবন ঘেষে মাঠের উত্তরাংশ এখন সর্বসাধারণের উন্মুক্ত মূত্র বিসর্জনের স্থানে পরিণত হয়েছে। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে মাঠে সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। শুধু তা’ই নয়, স্টেডিয়ামের পবিত্রতা ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মাঠটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যক্তিগত কাজে। মাঠের ভেতরেই যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে ইট, বালু ও খোয়া। রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াই মাঠের বুক চিরে অবাধে চলছে যানবাহন, যেন এটি খেলাধুলার মাঠ নয়, বরং চলাচলের সাধারণ কোনো রাস্তা।

স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও যুবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একসময় এই মাঠে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা টুর্নামেন্ট হতো। কিন্তু বর্তমানে এই নোংরা পরিবেশ এবং মাঠের ভেতর নির্মাণ সামগ্রী পড়ে থাকার কারণে তারা আর ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারছেন না। মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে যেখানে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানো দরকার, সেখানে একমাত্র মিনি স্টেডিয়ামটির এমন বেহাল দশা স্থানীয় সচেতন মহলকে দারুণভাবে ভাবিয়ে তুলছে।স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা অবিলম্বে স্টেডিয়ামের চারপাশের অবৈধ ময়লা ফেলা বন্ধ, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, শৌচাগার ও ভবন সংস্কার এবং মাঠটিকে খেলার উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা চান, দ্রুতই যেন মাঠটি তার পুরনো যৌবন ফিরে পায় এবং মুখরিত হয়ে ওঠে তরুণদের কোলাহলে।

ক্রিকেট খেলোয়াড় রনি সিকদার বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাঠে খেলাধুলা করি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে মাঠের বেহাল দশা বাড়ছেই। তবে, এসব যেন দেখার কেউ নেই। আমরা চাই দ্রুত মাঠটিকে সংস্কার করে খেলার উপযোগী করে তোলা হোক।

আরিফ নামের আরেক ফুটবল খেলোয়াড় বলেন, এখানকার মানুষ মাঠটিকে নিজেদের কাজে ব্যবহার করছে, কেউ ইট বালু রাখছে, কেউবা মোটরসাইকেল চালানো শিখছে। আর সর্বক্ষণ মাঠের উপর দিয়ে মানুষের চলাচল আছেই। যেটি খেলাধুলার সময় বাঁধার সৃষ্টি করে। আমরা দ্রুত এসবের সমাধান চাই।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ডি.এম. শফিকুল ইসলাম ফরিদ বলেন, আমরা মাঠটি ঠিক করতে খুব চেষ্টা করছি। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেগুলো অনুধাবন করতে পারেনা। ইতোমধ্যে আমরা কিছু কাজ শুরু করেছি। আশা করছি অল্প কিছু দিনের মধ্যে মাঠটি আরও সুন্দর করা সম্ভব হবে।

মির্জাপুর পৌরসভার প্রশাসক তারেক আজিজ বলেন, ইতোমধ্যে স্টেডিয়ামের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ক্রীড়া সংস্থার অন্যদের সঙ্গেও এ নিয়ে পরামর্শ করা হয়েছে। স্টেডিয়ামকে অন্যতম একটি ক্রীড়া উপযোগী হিসেবে তৈরি করতে আমরা স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নতুন অর্থবছরেই চিঠি পাঠাবো এবং পুরো মাঠ নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। আশা করি পৌর এবং উপজেলা প্রশাসন মিলে মির্জাপুরবাসীকে অনেক বড় একটি উপহার দিতে পারবো।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

 

 

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন