হোটেল নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও রাজধানীর হাতিরঝিল-সংলগ্ন বীর উত্তম শওকত সড়কে নির্মাণাধীন পাঁচতারকা হোটেল চেইন সুইসোটেল ঢাকা প্রকল্পে কাজ এগোচ্ছে বাণিজ্যিক ভবনের আদলে—এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে হাতিরঝিলের জন্য প্রণীত বিশেষ ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) এবং ২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। বিধি অনুযায়ী, হাতিরঝিলের ৩০০ মিটারের মধ্যে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রকল্পটিতে সেই নিয়ম মানা হয়নি। পাশাপাশি অনুমোদিত হোটেল প্রকল্পের ব্যবহার পরিবর্তন করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের জন্য এখনো রাজউকের কাছে কোনো সংশোধিত নকশা জমা দেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাতিরঝিলের উত্তর-পূর্বাংশে নির্মাণাধীন ভবনটির এক পাশে রাজউকের ম্যানেজমেন্ট ভবন এবং অন্য পাশে নিকেতন হাউজিং সোসাইটির ২ নম্বর গেট অবস্থিত। ভবনের ভেতরে পুরোদমে নির্মাণকাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ সুইজারল্যান্ডভিত্তিক হোটেল চেইন সুইসোটেলের সঙ্গে রাজধানীতে একটি পাঁচতারকা হোটেল নির্মাণের চুক্তি করে। প্রাথমিক নকশা ও জমি প্রস্তুতের কাজ শেষে ২০১৯ সালের মার্চে বেসমেন্টসহ ২৯ তলা ভবনের নির্মাণ শুরু হয়, যার মোট ফ্লোর এরিয়া রেশিও (ফার) প্রায় ৩৭ হাজার ৩৭৫ বর্গমিটার। তবে হোটেল নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে সেখানে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে, যা বিশেষ ড্যাপ অনুযায়ী ওই এলাকায় অনুমোদিত নয়।
রাজউক সূত্র জানায়, হাতিরঝিলের নান্দনিকতা ও পরিবেশ সংরক্ষণে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিশেষ ড্যাপ প্রণয়ন করেছে। ওই ড্যাপ অনুযায়ী হাতিরঝিলের ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। একইসঙ্গে ২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যে স্থাপনার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে, তা পরিবর্তন করে অন্য ব্যবহার করা যাবে না। ব্যবহার পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে সংশোধিত নির্মাণ অনুমতি (রিভাইজড কনস্ট্রাকশন পারমিট) নিতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, হোটেল থেকে বাণিজ্যিক ভবনে রূপান্তরের বিষয়টি তার জানা নেই এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার অথরাইজড অফিসার বিস্তারিত জানাতে পারবেন; তবে অনুমোদিত ব্যবহার পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই সংশোধিত নির্মাণ অনুমতি নিতে হবে। অন্যদিকে, রাজউকের জোন-৪ এর অথরাইজড অফিসার মো. হাসানুর রেজা জানান, ভবনের ব্যবহার পরিবর্তনের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো অনলাইন আবেদন পাওয়া যায়নি এবং সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ভবন করার আবেদন এলে তা অনুমোদন দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘হোটেলের জন্য নকশা অনুমোদন নিয়ে সেখানে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক স্থাপনা করা হলে তা নির্মাণ বিধিমালার সুস্পষ্ট ব্যত্যয়। অনুমোদিত স্ট্রাকচারাল ড্রইং অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না, তা তদারকির দায়িত্ব রাজউকের।’






