ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চর সোনারামপুরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি ড্রেজারের মাধ্যমে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে চরটির অস্তিত্ব, বসতভিটা, কৃষিজমি এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জে মেঘনা নদীতে বর্তমানে বালু উত্তোলনের কোনো সরকারি ইজারা নেই। তবে পাশের কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার মেন্দিপুর এলাকায় ইজারা থাকলেও, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র নৌপথে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের আশুগঞ্জের চর সোনারামপুর এলাকায় এসে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানান , প্রতিনিয়ত রাতের বেলায় নির্বিঘ্নে বালু কাটা হচ্ছে। ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চরটি আবারও ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। চর সোনারামপুরের অধিকাংশ বাসিন্দা হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং তাদের প্রধান জীবিকা মাছ ধরা। প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে তারা প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদও করতে পারছেন না।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ২৩২ কেভি আশুগঞ্জ-সিরাজগঞ্জ জাতীয় গ্রিড লাইন এবং আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে। তাদের দাবি, নদীর তলদেশ থেকে ব্যাপকভাবে বালু অপসারণের ফলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ারগুলোর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে যেকোনো সময় টাওয়ার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি-ভিডিওতেও চর সোনারামপুর থেকে ব্যাপক হারে বালু উত্তোলনের চিত্র দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চললেও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে শুধু বিদ্যুৎ অবকাঠামো নয়, আশুগঞ্জ নদীবন্দর, আশুগঞ্জ বাজার, আশপাশের ফসলি জমি, বসতবাড়ি, মসজিদ ও শ্মশানঘাটও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও জননিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন একটি বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কেন দৃশ্যমান নয়? বিষয়টি কি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি, নাকি জেনেও তারা নীরব রয়েছেন—এমন প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল অবিলম্বে চর সোনারামপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বার্তা বাজার/এস এইচ






