সিলেটের সদ্য বিদায়ী ডিসি সারওয়ার আলমকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে চিঠি দিয়েছেন আবু জলিল হাবিব নামের এক ব্যক্তি। দানবাক্সে টাকা গণনার সময় তিনটি চিঠি পাওয়া যায়। দুটি চিটিতে সারওয়ার আলমকে পূর্বের পদে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হয়।
শনিবার দ্বিতীয়বারের মতো সিলেটের হজরত শাহজালালের (র.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা চলে। বিকেল ৬টা পর্যন্ত গণনা চলে।
মাজারের তিনটি ডেগ ও ছোট-বড় ৫টি দানবাক্সে টাকা গণনার সাথে পাওয়া গেছে তিনটি চিরকুট। বেলা ২টার পর এসব চিরকুট গণনাকারীদের হাতে পড়ে। একটি চিরকুট মাজারের একজন খাদেমের সহকারী খোকন সম্পর্কে এবং অপর চিরকুটটি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লেখা।
দানবাক্সে পাওয়া একটি চিরকুটে আবু জলিল হাবিব নামের এক ব্যক্তি খোকনকে ‘বাটপার’ উল্লেখ করে তার বিচার এবং শেষ লাইনে ডিসি সারওয়ারকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। চিরকুটে খোকনকে উদ্দেশ্য করে হাবিব লেখেন, ‘সে মাজারের গরু, ছাগল, হাঁস, মোরগ বেচাকেনা করে। মাজারের খাদেমদের অর্ধেকেরও বেশি তার ইশারায় চলে। খোকনের কারণে পূর্বের অনেক কর্মচারী চাকরি হারায়। … আমি চাই তার সঠিক বিচার হোক।’
এ ছাড়া আরেক চিরকুটে দরগাহ মহল্লার এক বাসিন্দা নিজেকে শুভাকাঙ্ক্ষী পরিচয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সারওয়ার আলমকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। চিঠিতে লেখেন, ‘সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার সাহেবকে যেকোনো উপায়ে পুনরায় সিলেটে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক।’
অপর একটি চিরকুটে মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদ নামে এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখেন। চিরকুটে তিনি ধর্ষণ, হত্যা, শিশু নির্যাতন ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান। তাতে উল্লেখ করা হয়, ‘জানি না আমার এই চিরকুট আপনার কাছে পৌঁছাবে কি? … আমাদের বাংলাদেশ সুন্দরভাবে এগিয়ে যাক। ধর্ষণ, হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের ঘটনায় দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দৃশ্যমান বিচার দেখতে পাই না।’
চিঠিতে রামিসা, আছিয়া ও হাদীর হত্যাকারীদের পাথর মেরে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম মাজারের দানের টাকার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ৭০০ বছরের প্রথা ভেঙে তিনি মাজারের দানবাক্স সিলগালা করেন। এ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। দানবাক্স সিলগালা বিতর্কের মধ্যে ২১ জুন সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। পরদিন গত ২২ জুন প্রত্যাহারাদেশ মাথায় নিয়ে দানবাক্স খোলেন তিনি। ওই দিন দানবাক্সে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়।






