উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং নিম্নমানের কাজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।তিনি বলেছেন, উন্নয়ন শুধু প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রতিটি কাজ হতে হবে মানসম্মত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং দীর্ঘস্থায়ী।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অবহেলা, অনিয়ম বা নিম্নমানের নির্মাণ বরদাশত করা হবে না। জনগণের কষ্টার্জিত করের অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্প যেন দীর্ঘদিন মানুষের উপকারে আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এমপি শ্যামল জানান, আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে রাজঘর-আমতলী এলাকার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, একই কাজ বারবার করতে হলে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হয়, তেমনি জনগণের দুর্ভোগও বাড়ে। তাই শুরু থেকেই কাজের মান নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ঠিকাদার, তদারকি কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে বলেন, প্রকল্পের প্রতিটি বিষয় ভালোভাবে বুঝে নির্মাণকাজ করতে হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না। এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে অন্তত সাত থেকে আট বছর বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন না পড়ে।
এমপি শ্যামল আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসন বা প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্ব নয়; এটি সংশ্লিষ্ট সবার নৈতিক দায়িত্ব। পরিকল্পনা, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার বা দায়সারা কাজের কারণে কোনো প্রকল্প দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকৃত সফলতা তখনই আসে, যখন তা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে। টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
উন্নয়নকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জনগণের আস্থার মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের প্রতিটি টাকা আমাদের কাছে আমানত। সেই আমানতের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। উন্নয়ন এমন হতে হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজঘর-আমতলী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, সড়কের ক্ষতি এবং জনদুর্ভোগ নিত্যদিনের চিত্র। তারা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে এটি টেকসই ও জবাবদিহিমূলক উন্নয়নের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।






