কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রামগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমানের গ্রামের বাড়ির একটি টিনশেড বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, মূল্যবান আসবাবপত্র ও ঘরের প্রায় সব মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। তবে পরিবারের বৃদ্ধ মা ও শিশু সদস্যরা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের হান্ডা গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে বাড়ির সদস্যরা হঠাৎ ঘরের সামনের কক্ষ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে দ্রুত ভেতরে থাকা লোকজনকে বাইরে নিয়ে আসেন। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, মূল্যবান আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদসহ প্রায় সব মালামাল পুড়ে যায়।
চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. মেহেদী হাসান সুজন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা দেয়। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার রাস্তা ভাঙা থাকায় পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। এতে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোসাইন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে।
ভুক্তভোগী ইউএনও কাজী আতিকুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় আমি কর্মস্থলে ছিলাম। স্বজনদের ফোনে আগুন লাগার খবর পাই। বাড়িতে আমার বৃদ্ধ মা, ভাবী ও ছোট ছোট শিশুরা ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঘরের সব মালামাল পুড়ে গেছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে।






