ঢাকা   শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

আজ সিনহা হত্যার ৬ বছর, খুনিদের শাস্তি হবে কবে?

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ এএম

আজ সিনহা হত্যার ৬ বছর, খুনিদের শাস্তি হবে কবে?

আজ মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ছয় বছর পূর্ণ হলেও আইনি প্রক্রিয়া ও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়নি। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে রায় ঘোষণার পরও সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে চাঞ্চল্যকর এই মামলার অগ্রগতি। ফলে পরিবারের অপেক্ষা এবং জনমনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে সংশয়।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে একটি ইউটিউব চ্যানেলের জন্য প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের কাজ শেষে ফেরার পথে টেকনাফের শামলাপুর পুলিশি তল্লাশিচৌকিতে সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে থামানো হয়। গাড়ি থেকে নামিয়ে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী সিনহাকে লক্ষ্য করে ৪ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ার পর সিনহা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন ওসি প্রদীপ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বুট জুতো দিয়ে সিনহার বুকে এবং গলার বাম পাশে চেপে ধরে পাঁজরের হাড় ভেঙে ফেলেন এবং নির্মমভাবে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাটিকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং সিনহার সহযোগী শিপ্রা দেবনাথ ও সাইদুল ইসলাম সিফাতের বিরুদ্ধে ২টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে কারাগারে প্রেরণ করে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং পরবর্তীতে ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে পুলিশের সাজানো নাটকে পুলিশ ফেঁসে যায়।

ঘটনার পরে ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে র‍্যাব।

আদালত দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার প্রধান আসামি লিয়াকত আলী ও সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, সাবেক কনস্টেবল সাগর দেব ও রুবেল শর্মা, পুলিশের স্থানীয় সোর্স নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিনসহ ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তারা প্রত্যেকেই কারাগারে রয়েছেন।

বিচারিক আদালতের রায় এবং ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২ জুন হাইকোর্ট প্রদীপ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। একই বছরের ২৩ নভেম্বর ৩৩৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়, যেখানে প্রদীপকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

হাইকোর্টের রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দাখিল করলেও তা এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর্যায়ে রয়েছে।

কক্সবাজার জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকরামুল হুদা জানান, দেশের বিচারিক নিয়মানুযায়ী আপিল বিভাগে এই আবেদনগুলোর শুনানি এবং চূড়ান্ত রায় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো আসামিরই মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর করা যায় না। আপিল বিভাগের নিয়মিত মামলার জট এবং আইনি প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণেই মূলত রায় কার্যকরের বিষয়টি বছরের পর বছর ঝুলে রয়েছে। তবে এটি যেহেতু আলোচিত মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা দরকার।

মামলার বাদী নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বলেন, নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি, কিন্তু আদেশ শুধু কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। চূড়ান্ত রায় কার্যকর না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও হতাশার মধ্যে রয়েছি। রাষ্ট্রের উচিত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটির আপিল শুনানি সম্পন্ন করে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।

প্রসঙ্গত, প্রশাসনিক তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী প্রদীপ কুমার দাশ টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থাকাকালীন মাদক নির্মূলের নাটক সাজিয়ে ২২ মাসে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে ২০৪ জনকে বিচার বহির্ভূত ভাবে হত্যা করেছিলেন।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন