দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা করাতে না পেরে জোড়া লাগা দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে গ্রামে ফিরে গিয়েছিলেন অসচ্ছল মা-বাবা। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের ঢাকায় এনে সরকারি খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই শিশুরই মৃত্যু হয়েছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের দোকান কর্মচারী নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির জোড়া লাগা দুই শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুমকে সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়।
কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, দুই শিশুর হৃদ্যন্ত্র একটি ছিল এবং এতে ছিদ্র ছিল।
এর আগে, শিশু দুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিশু দুটির চিকিৎসার দায়িত্ব সরকার নিয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে বোর্ড গঠন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তখন আরো জানিয়েছিলেন, শিশু দুটির অপারেশনসহ চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
হাসপাতালে অবস্থানকালে পরিবারটির খাবারের ব্যবস্থাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল।
জানা যায়, প্রায় তিন মাস সাত দিন আগে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) শিশু দুটির জন্ম হয়। অর্থাভাবের কারণে চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই একপর্যায়ে পরিবারটি গ্রামে ফিরে যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তাদের ঢামেক হাসপাতালে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
তবে চিকিৎসা শুরু হতে না হতেই দুই জোড়া লাগা শিশুর জীবনাবসান হলো।






