ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

গ্যাসের অভাবে ১৬ মাস বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, প্রতি মাসে ক্ষতি ১৩৫ কোটি টাকা

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

গ্যাসের অভাবে ১৬ মাস বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, প্রতি মাসে ক্ষতি ১৩৫ কোটি টাকা

একসময় কারখানার চিমনি থেকে সারাক্ষণ ধোঁয়া উঠত, উৎপাদন ইউনিটে ছিল কর্মচাঞ্চল্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাকে করে পৌঁছে যেত কৃষকের অন্যতম প্রধান উপকরণ ইউরিয়া সার। তবে এখন সেই চিত্র নেই। গ্যাস সংকটে টানা ১৬ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল)।

উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানাটির পরিচালন ব্যয় থেমে নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংকঋণের সুদ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বহন করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতি মাসে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৪৭ থেকে ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। মাঝেমধ্যে সীমিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হলেও তা দিয়ে কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু কাউসার বলেন, ১৯৮৩ সালে উৎপাদন শুরুর পর থেকে কারখানাটি বছরে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে আসছে। কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা এখনো রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে দ্রুত উৎপাদনে ফেরা সম্ভব।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে কারখানার যন্ত্রপাতি সচল করে উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন যন্ত্রপাতি অচল থাকায় এগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় দক্ষ জনবলও কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংকঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নিয়মিত বহন করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আশুগঞ্জ সার কারখানা দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ থাকা শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এর প্রভাব পড়তে পারে দেশের সার সরবরাহ ও কৃষি উৎপাদনের ওপরও। দেশিয়ভাবে ইউরিয়া উৎপাদন কমে গেলে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়বে। এতে একদিকে বাড়বে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম ওঠানামা করলে দেশের কৃষকরাও বাড়তি চাপের মুখে পড়তে পারেন।

কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ইউরিয়া সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্টদের মতে, আশুগঞ্জ সার কারখানাকে দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ ১৬ মাস ধরে বন্ধ থাকা কারখানাটি দ্রুত চালু করা গেলে একদিকে বিপুল আর্থিক ক্ষতি কমবে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ ইউরিয়া সার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। ফলে কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে আশুগঞ্জ সার কারখানায় দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বার্তা বাজার/ আইকে

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন