২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
আজ রোববার ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও সহিদুল ইসলাম সরদার।
শুনানিতে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন জানান, মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় খুঁজে পায়নি। এর মধ্যে ২০ জনের নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) ট্রাইব্যুনালে জমা পড়েছে, তবে বাকিদের প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হাসানুল হক ইনু এবং অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার থাকা সাবেক মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু না হওয়ায় তাদের আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে পরবর্তী শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করা হয় বলেও জানান তিনি।
পরে ট্রাইব্যুনাল ইনু ও আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির নির্দেশ দেন এবং বাকি আসামিদের এনইআর দাখিলের জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেন।
এদিন সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় নয় আসামিকে। তারা হলেন— সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু।
এর আগে, গত ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেফতার আসামিদের আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়ে ১৬ আগস্ট শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়।
বার্তা বাজার/এআর






