টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া প্রবাসফেরত জামাল উদ্দিন মারা গেছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। জামাল উদ্দি (৫৫) সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামের বাসিন্দা।
জামাল উদ্দিনের ভাতিজি ইসমত আরার স্বামী শাহ আলম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি নিজ গ্রাম ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে পরিবারের সুখ-সচ্ছলতার আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে প্রায় ১২ বছর থাকার পর অসুস্থ হয়ে কয়েক মাস আগে দেশে ফেরেন। অসুস্থতার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলেন না।
গত ২ আগস্ট রাতে কালমেঘা এলাকায় অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। রাতে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি সেখানে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকেন। পরদিন স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে নিয়ে যান।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে ৬ আগস্ট এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় জামাল উদ্দিনকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৫ আগস্ট তাকে ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই সোমবার তার মৃত্যু হয়।
জামাল উদ্দিনের ভাতিজি ইসমত আরার স্বামী শাহ আলম বলেন, সোমবার বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। জামাল উদ্দিনের মৃত্যুর খবর তার পরিবার জানালে হলেও কেউ দেখতে আসেননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তার। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রায় আড়াই মাস আগে আমি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছি। এখন তিনি আমার স্বামী নন। তাই তাকে গাড়িতে করে তাদের গ্রামে রেখে এসেছি।
জামাল উদ্দিনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় তাকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।






