কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগৎপুর গ্রামে এক শ্রমজীবী দম্পতিকে জিম্মি করে মারধর, চাঁদা দাবি ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করায় যুবদল নেতার নেতৃত্বে ভুক্তভোগীর বাবার বাড়িতে হামলা এবং এলাকা ছাড়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, জগৎপুর গ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন আসিফ ও পপি দম্পতি। আসিফ স্থানীয় হরিশ্চর বাজারের ‘তাজ হোটেল’-এর শ্রমিক এবং তার স্ত্রী পপি কুমিল্লা ইপিজেডের কর্মী। গত বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতে কাজ শেষে আসিফ বাসায় ফেরার পর জগৎপুর এলাকার তাজু, মফিজ ও রবিনসহ কয়েকজন তার ঘরে ঢুকে মারধর শুরু করেন।
খবর পেয়ে গভীর রাতে কুমিল্লা থেকে স্ত্রী পপি বাসায় এলে অভিযুক্তরা তার ওপরও চড়াও হন এবং তাকে টানাহেঁচড়া করেন। একপর্যায়ে তারা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। পপি ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও অভিযুক্তরা এতে রাজি না হয়ে আসিফকে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন।
পুরো টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা পপিকে কুপ্রস্তাব দেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় আশপাশে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা সরে পড়েন।
পরদিন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন কুমিল্লা জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম—এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। বিষয়টি নিয়ে সামাজিকভাবে বসার কথা থাকলেও অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে যুবদল নেতা শাহ আলম নিজেও তাকে কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন পপি।
কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের বিচার দাবি করে পোস্ট দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে যুবদল নেতা শাহ আলমের নেতৃত্বে কয়েকজন ভুক্তভোগী পপির বাবার বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় পপিকে জোরপূর্বক বক্তব্য ভিডিও করার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং দ্রুত এলাকা ছেড়ে না গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে কুমিল্লা জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সামাজিক বা রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করতেই একটি পক্ষ এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
লালমাই উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। যুবদলের কোনো নেতাকর্মী যদি অপকর্ম বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে দল তার দায় নেবে না। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






