ঢাকা   শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় শিশুর মাকে মারধরের অভিযোগ, আতঙ্কে পরিবার

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় শিশুর মাকে মারধরের অভিযোগ, আতঙ্কে পরিবার

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার কুটিরচর এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসফিয়া আক্তার রিতুর ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করায় তার মাকে পথরোধ করে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামিপক্ষের পরিবারের বিরুদ্ধে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার কুটিরচর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পূর্বে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ থামিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুটিরচর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে, দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসফিয়া আক্তার রিতুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রিতুর মা স্বপ্না খাতুন কামারখন্দ থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ রয়েছে, মামলাটি তুলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে আসামিপক্ষের পরিবার তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্বপ্না খাতুন তার মেয়ে তাসফিয়া আক্তার রিতুকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে রফিক শেখের বাবা নূর মোহাম্মাদ, মা রোকেয়া বেগম, বোন নাসিমা খাতুন, স্ত্রী ফুলেরা বেগম ও ভাই রিপন শেখ তাদের পথরোধ করেন।

এ সময় তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে স্বপ্না খাতুনের চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে তাকে নিজেদের বাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি মারা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মাকে মারধরের ঘটনা দেখে তাসফিয়া আক্তার রিতু চিৎকার করতে করতে বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে খবর দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে স্বপ্না খাতুনকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোছা. সাবিনা খাতুন বলেন, “আমি দেখি রফিক শেখের পরিবারের ৫-৬ জন ছিল। অন্যদিকে স্বপ্না বেগম ও তার ছোট মেয়ে ছিল। রফিক শেখের পরিবারের সবাই মিলে স্বপ্নাকে মারধর করছে। একজন চুল ধরে টেনেছে, অন্যজন লাথি মারছে। যে যেভাবে পেরেছে, মারছে। আমার স্বামী মো. সাইফুল ইসলাম ঠেকাতে গেলে তাকেও ঘুষি মেরেছে। আমার হাতেও আঘাত লেগেছে, এখনো ব্যথা পাচ্ছি। আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়।

ভুক্তভোগী স্বপ্না খাতুন বলেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের দীর্ঘদিন ধরে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছিল। সকালে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা আমাদের পথরোধ করে। একপর্যায়ে আমাকে মারধর করে এবং টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করেন। পরে আমি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি।

এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল সকালে খালা মোছা. আখি খাতুনের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার সময় কুটিরচর মধ্যপাড়া এলাকায় রফিক শেখের বাড়ির সামনে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসফিয়া আক্তার রিতুর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে শিশুটির কপাল ফেটে গুরুতর আহত হয় এবং তাকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় রিতুর মা স্বপ্না খাতুন কামারখন্দ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন