নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার হাজতখানায় থাকা ১০ আসামির নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘আজমিরী ওসমান’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। থানা হেফাজতে থাকা আসামিদের হাতে মুঠোফোন ও ফেসবুক পোস্টের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
থানা হাজতখানায় থাকা অবস্থায় আসামিদের হাতে মুঠোফোন পৌঁছানো এবং সেই মুঠোফোন ব্যবহার করে ফেসবুকে ভিডিও প্রচারের ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ফেরদৌস (১৮), পলক (১৭), আবরার আহম্মেদ (১৮), ইয়াসিন (১৮), রাব্বি (২০), শিমুল (২০), লিমন (১৭), নয়ন (১৮), আবু বকর (১৬) ও তানভীর (১৫) । তাদের বাড়ি শহরের পাইকপাড়া ও ফতুল্লার পঞ্চবটি বিসিক এলাকায়।
ভাইরাল ভিডিওতে এক তরুণকে বলতে শোনা যায়, ‘আজমেরী ভাইয়ের জন্য, নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য আমাদের এই বিপদ কেটে যাবে, একদিন সুদিন আসবে। আজমেরী ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’ এরপর সেখানে থাকা অন্য তরুণদেরও একই স্লোগান দিতে দেখা যায়।
অপর একটি ভিডিওতে এক তরুণকে বলতে শোনা যায়, ‘ভাইজান (আজমেরী ওসমান), আজ আপনার দেওয়া প্রোগ্রামে আমরা অ্যাটেন্ড করতে পারি নাই। আমরা যেতে চেয়েছিলাম। আজ আমরা মুক্তির জন্য লড়াই করতে চেয়েছিলাম। এ কারণে আমাদের সবাইকে কারাবরণ করতে হয়েছে। আমাদের প্রোগ্রাম করা যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে এটা কীসের বাক স্বাধীনতার দেশ, কিসের মুক্তির দেশ। আমরা স্বাধীনতা চাই।’
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্র্যান্ড চাঁদনী রেস্টুরেন্টের বিপরীতে ঢাকামুখী প্রধান সড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় শনিবার রাতে ওই ১০ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁরা থানা হাজতে ছিলেন। তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছর হবে। পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী আটকের বিষয়ে অভিভাবকদের ফোন করে জানানোর। থানার হাজতে আটক থাকায় ডিউটি অফিসার মনিরুল ইসলাম সরল বিশ্বাসে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাঁদের মুঠোফোন দিয়েছিলেন। কোন এক ফাঁকে ওই তরুণেরা নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে স্লোগান দিয়ে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
মাহবুব আলম আরও বলেন, এ ঘটনায় ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।






