কেন বিমানে খাবার খেতে বিস্বাদ লাগে? কারণ জানলে অবাক হবেন
এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : বিমানে উঠে অনেকেরই মনে হয়, মাটিতে যে খাবার বেশ সুস্বাদু লাগে, আকাশে সেটিই যেন কিছুটা বিস্বাদ। খাবারের রেসিপি বদলে যায় না, বদলে যায় আমাদের স্বাদ ও গন্ধ অনুভবের ক্ষমতা।
উচ্চতা, কেবিনের শুষ্ক বাতাস, চাপ ও বিমানের একটানা শব্দ—সব মিলিয়ে খাবারের স্বাদ ভিন্ন মনে হতে পারে। হিন্দুস্তান টাইমসের ‘এভরিডে এক্সপ্লেইনড’ প্রতিবেদনে ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট ও মেটাবলিক হেলথ কোচ নিশিকা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
শুষ্ক বাতাসে কমে যায় গন্ধের অনুভূতি
বিমানের কেবিনে আর্দ্রতা তুলনামূলক কম থাকে। ফলে মুখ ও নাকের ভেতর শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এতে খাবারের গন্ধ ও সূক্ষ্ম স্বাদ অনুভবের ক্ষমতাও কিছুটা কমে যায়।
আসলে আমরা খাবারের যে ‘স্বাদ’ অনুভব করি, তার বড় একটি অংশই আসে গন্ধ থেকে। তাই নাক ও মুখ শুষ্ক থাকলে খাবারকে আগের তুলনায় কম সুগন্ধি বা কিছুটা বিস্বাদ মনে হতে পারে।
বিমানের শব্দও প্রভাব ফেলে
খাবারের স্বাদ বদলে যাওয়ার আরেকটি কারণ বিমানের একটানা শব্দ।
উচ্চমাত্রার শব্দ কিছু স্বাদের অনুভূতিকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে মিষ্টি স্বাদ তুলনামূলক কম তীব্র মনে হতে পারে। অন্যদিকে উমামি বা খাবারের গভীর, ঝাল-মশলাদার ও মুখরোচক স্বাদ বেশি স্পষ্ট মনে হতে পারে।
টমেটো, মাশরুম, পনির ও বিভিন্ন ধরনের ঝোল বা ব্রথে উমামি স্বাদ পাওয়া যায়। এ কারণেই বিমানে মসলা, সস ও তুলনামূলক তীব্র স্বাদের খাবার অনেকের কাছে বেশি উপাদেয় মনে হতে পারে।
খাওয়ার সময় ও মানসিক অবস্থারও প্রভাব আছে
বিমানে খাবার খাওয়ার অভ্যাসও স্বাদ অনুভূতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ঘুমের সময়সূচি বদলে যাওয়া, ক্লান্তি কিংবা ক্ষুধা না থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন—এসব কারণে খাবার উপভোগের অনুভূতি বদলে যেতে পারে।
এ কারণেই বিমানে টমেটোর জুসের মতো উমামি-সমৃদ্ধ পানীয় বেশ জনপ্রিয়। অন্য কিছু স্বাদ যখন তুলনামূলক ম্লান মনে হয়, তখন এর স্বাদ ও গন্ধ বেশি স্পষ্টভাবে অনুভূত হতে পারে।
অর্থাৎ, বিমানে খাবার সত্যিই বদলে যায় না। কেবিনের শুষ্ক পরিবেশ, শব্দ এবং আমাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তনের কারণেই একই খাবার আকাশে ভিন্ন স্বাদের মনে হতে পারে।






