প্রথম টেস্টের সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১১১ ওভারে ৪৪৭/৪ (শান্ত ৬১*, লিটন ১৯*; সাদমান ৮০, জয় ১৭১, মুমিনুল ৮২, মুশফিক ২৩)
আয়ারল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৯২.২ ওভারে ২৮৬/১০ (ইয়াং ৬*; বালবার্নি ০, স্টার্লিং ৬০, টেক্টর ১, কারমাইকেল ৫৯, ক্যাম্ফার ৪৪, টাকার ৪১, ম্যাকব্রিন ৫, জর্ডান ৩০, হামফ্রিজ ০, ম্যাকার্থি ৩১)
দ্বিতীয় দিন দারুণ ব্যাটিং করেছেন মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক। জয় সেঞ্চুরি তুলে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ইনিংস উপহার দিয়েছেন। মুমিনুলও তুলে নেন ফিফটি। তৃতীয় দিনের শুরুর দিকে অবশ্য তাদের প্রতিরোধ ভেঙেছেন ম্যাকব্রিন। তাতে ভাঙে ১৭৩ রানের জুটি। শুরুতে জয় আউট হন ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১৭১ রানে। তার পর মমিনুল ফেরেন ৮২ রানে।
শুরুর ধাক্কার পরও বাকিটা সময় বাংলাদেশই শাসন করেছে। চতুর্থ উইকেটে ৭৯ রান যোগ করেন নাজমুল হোসেন ও মুশফিকুর রহিম। এই জুটিতেই বাংলাদেশের স্কোর চারশ ছাড়িয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে লাঞ্চের কিছুক্ষণ আগে মুশফিক আউট হন ২৩ রানে।
তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারালেও লাঞ্চে যাওয়ার আগে লিড দাঁড়িয়েছে ১৬১ রানে। প্রথম সেশন শেষে প্রথম ইনিংসে তাদের স্কোর দাঁড়িয়েছে ৪ উইকেটে ৪৪৭ রান। শান্ত ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি তুলে ৬১ রানে ব্যাট করছেন। সঙ্গে ১৯ রানে অপরাজিত লিটন দাস।
মুশফিকের বিদায়ে ভাঙলো ৭৯ রানের জুটি
দ্বিতীয় দিন দারুণ খেললেও তৃতীয় দিনের শুরুতেই বিদায় নেন সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক। তার পর চারে নামা নাজমুল হোসেন শান্তও দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শনী করেছেন। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে মিলে চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ৭৯ রান। শান্ত আক্রমণাত্মক থাকলেও মুশফিক ছিলেন পুরোপুরি খোলসবন্দী। দলের ৪২৫ রানে হামফ্রিজের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে কাটা পড়েন মুশফিক। তাতে লাঞ্চের আগে ভেঙেছে দারুণ একটি জুটি।
হামফ্রিজের দারুণ ঘূর্ণি বল মুশফিকের ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় বালবার্নির হাতে। অভিজ্ঞ ব্যাটার আউট হন ২৩ রানে।
তৃতীয় দিনের শুরুতেই ফিরলেন জয়-মুমিনুল
সিলেটে প্রথম টেস্টে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শনী করছে বাংলাদেশ। যার মূল কারিগর ছিলেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। তার ১৬৯* রানের অসাধারণ ইনিংসে ভর করেই ১ উইকেটে ৩৩৮ রান নিয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল। তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হতেই দিনের দ্বিতীয় ওভারে তাকে থামিয়েছেন ম্যাকব্রিন। ১৭১ রানে টাকারের গ্লাভসবন্দি হন তিনি। এক ওভার পর কাটা পড়েন মুমিনুল হকও। সেই ম্যাকব্রিনের বলেই ৮২ রানে ক্যাচ তুলে ফেলেন তিনি। তাতে তৃতীয় দিনে ফিরতেই ৩৪৬ রানে তিন উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।
হাসান মাহমুদের ১৭১ রান তার ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ। তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ভর করে গতকাল পুরো দিন ভর আইরিশদের ওপর দাপট দেখিয়ে লিড নেয় বাংলাদেশ। তার আগে আইরিশদের প্রথম ইনিংসে ২৮৬ রানে গুটিয়ে দেয় তারা।
গতকাল পুরো দিনে দুটি ১৫০ ছাড়ানো জুটির অংশ ছিলেন জয়। শুরুতে সাদমান ইসলামের সঙ্গে ১৬৮ রানের জুটি গড়েছেন। তাতে বাংলাদেশের প্রথম সেশন কেটেছে কোনও উইকেট না হারিয়ে। দ্বিতীয় সেশনে এসে সেই জুটি ভাঙে সাদমান ৮০ রানে আউট হলে। তার পর বাকিটা সময় শাসন করেছে জয়-মুমিনুলের জুটি। তৃতীয় দিন এসে ভেঙেছে দুজনের ১৭৩ রানের জুটি।





