ক্রিকেট মহাকাশ থেকে ২০২২ সালের ৪ মার্চ আচমকা অঝোর বৃষ্টি নামে। অবিশ্বাসের ঘোরে বন্দী হয়ে পড়েন সবাই। খেলাটির অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, লেগ স্পিন শিল্পের সবচেয়ে নিখুঁত শিল্পী শেন ওয়ার্ন সেদিন সবাইকে চমকে দিয়ে মৃত্যুদূতের ফ্লিপারে হন বোল্ড। সেটাও জন্মভূমি অস্ট্রেলিয়া থেকে ৭ হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ থাইল্যান্ডের কোহ সামুই দ্বীপে।
মৃত্যুর সময় কোহ সামুইয়ের সামুজানা ভিলাস রিসোর্টের একটি কক্ষে একাই ছিলেন ওয়ার্ন। থাইল্যান্ডের ফরেনসিক পুলিশ আলামত সংগ্রহ করতে গিয়ে তার ঘরের মেঝে, তোয়ালে ও বালিশে রক্তের দাগ পেয়েছিল। কিংবদন্তি লেগ স্পিনারের স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে তাই পরিবারের মনে মনে সন্দেহ জেগেছিল।
যদিও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসার পর থাইল্যান্ডের পুলিশ নিশ্চিত করে, শেন ওয়ার্নের মৃত্যুতে কোনো রহস্য নেই।
হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়াতেই নাকেমুখে রক্ত এসেছিল।
কিন্তু শেন ওয়ার্নের ছেলে জ্যাকসন ওয়ার্ন এখনো তা মানতে নারাজ। তার দাবি, অস্ট্রেলিয়া সরকারের নির্দেশে করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়াতেই তার বাবার মৃত্যু হয়েছে।
সম্প্রতি টু ওয়ার্ল্ডস কোলাইড নামের এক পডকাস্টে সাবেক সেনা সদস্য স্যাম ব্যামফোর্ডের মুখোমুখি হয়েছিলেন জ্যাকসন। সেখানে তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল, শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর পেছনে কি করোনা প্রতিরোধী টিকার কোনো ভূমিকা ছিল? জবাবে জ্যাকসন দ্বিধাহীন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি, এতে টিকার প্রভাব ছিল ছিল। এখন এটা বলা মোটেও বিতর্কিত বিষয় নয়।’
জ্যাকসন আরো বলেন, ‘বাবার যদি আগে থেকে কোনো শারীরিক সমস্যা থেকেও থাকে, আমার ধারণা করোনার টিকা সেটাকে সরাসরি সামনে নিয়ে এসেছে। যেদিন খবরটা পেলাম, ফোন রাখার পরপরই প্রথম আমার মাথায় এসেছিল—এর জন্য (অস্ট্রেলিয়ার) সরকার দায়ী, এর জন্য কোভিড টিকা দায়ী।
২০২৩ সালে স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরাও দাবি করেছিলেন, করোনার টিকা নেওয়ার কারণে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ওয়ার্ন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ অসীম মালহোত্রা ও অস্ট্রেলিয়ার পেশাদার চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ক্রিস্টোফার নেইল এ দাবি করেন। এর পেছনে যুক্তিও দেখিয়েছেন তারা।
মালহোত্রা ও নেইল গবেষণা করে জেনেছেন, করোনার এমআরএনএ (বার্তাবাহী রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) টিকা নিলে হৃৎপিণ্ডের সমস্যা দ্রুত বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাদের হৃৎপিণ্ডে অল্পবিস্তর সমস্যা এখনো ধরা পড়েনি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা বেশি।
মৃত্যুর ৯ মাস আগে ওয়ার্ন করোনার যে টিকা নিয়েছিলেন, সেটা ছিল এমআরএনএ ধরনের। এই টিকাই তার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছিল।
গবেষক মালহোত্রা বলেছেন, ‘একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার মাত্র ৫২ বছরে আচমকা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, এটা সচরাচর হয় না। আমার দুজন রোগীর ক্ষেত্রে সেটা দেখেছি। ফাইজারের এমআরএনএ কোভিড টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার পর কয়েক মাস ধরে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা ক্রমশ বাড়ছিল।’






