‘মেসিই এখন লাতিন আমেরিকান ফুটবলের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞাপন’
স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেছে। এই মহাযজ্ঞ নিয়ে আর্জেন্টিনার এক সংবাদপত্রকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি লেফটব্যাক রবার্তো কার্লোস। মেসি, নেইমার, রোনালদো থেকে শুরু করে ব্রাজিলের সম্ভাবনা সব নিয়েই কথা বললেন তিনি।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে কার্লোস বলেছেন, ‘রোমাঞ্চিত। প্রত্যেকবার বিশ্বকাপ আসে, আর আমার মনে হয়, যেন আমিই খেলতে নামব! মনে হয় যেন অনুশীলনে রয়েছি। যাদের এটা মনে হয় না, তারা ফুটবল ভালোবাসে না।’
২০০২ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর থেকে ব্রাজিল আর শিরোপা পায়নি। এবার পারবে কিনা, এই প্রশ্নে কার্লোস বলেছেন, ‘মাঠে নেমে প্যাশন দেখাতে হবে। দেশের জার্সির গুরুত্বটা বুঝতে হবে। লাতিন আমেরিকার ফুটবল সব সময় উঁচুমানের হয়। আমাদের এবারের কোচও দারুণ। প্লেয়াররা ভালো খেললে ফাইনাল খেলতে পারি।’
খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি পরিচিত ছিলেন তার দারুণ সব ফ্রিকিকের জন্য। এই ক্ষেত্রে তার উত্তরসূরি কে? এই প্রশ্নের জবাবে কার্লোস নিয়েছেন মেসির নাম। বলেছেন, ‘সেটপিসে মেসি অনেক উন্নতি করেছে আগের চেয়ে। আর্জেন্টিনার হয়ে বলুন বা ইন্টার মিয়ামি। প্রচুর গোল করে ও এখন ফ্রিকিক থেকে।’
মেসিকে নিয়ে আবেগ লুকাননি কার্লোস। বলেছেন, ‘মেসির খেলা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। মেসিই এখন লাতিন আমেরিকান ফুটবলের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞাপন।’
তিনি জানান, ব্রাজিলেও এখন মেসির অনেক সমর্থক। তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় প্রচুর আর্জেন্টিনা সমর্থক মাঠে ব্রাজিল জার্সি পরে আসতেন। এখন উলটোটা হয়। ফুটবল এখন অনেক আধুনিক হয়ে গেছে। প্রতিটি দেশের এখন একজন আইকন রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘আমার মনে হয়, এবারের বিশ্বকাপ উপভোগ করা উচিত মেসির। কারণ, এটাই সম্ভবত ওর শেষ বিশ্বকাপ। আবারও বলছি, সম্ভবত।’
২০২৬ মেসির শেষ বিশ্বকাপ কি না, সে প্রশ্নের জবাবে ইতিবাচকই ছিলেন কার্লোস। তিনি মেসির আরও একটা বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। বলেছেন, ‘খেলতেই পারে। নিজের শরীরের যত্ন নিলে সম্ভব।’
নেইমারের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমাদের প্রথমে দেখতে হবে, ও পুরোপুরি ফিট কি না। লাগাতার চোট-আঘাতে অদ্ভুত একটা মৌসুম গেছে নেইমারের। ব্রাজিলের দরকার নেইমারকে। তা সে খেলুক বা বেঞ্চে বসে থাকুক। আর যদি মাঠে নামতে পারে নেইমার, দেখার মতো হবে।’
ব্রাজিলকে এবার কেউ ফেভারিট ধরছে না — এই কথায় অবশ্য মোটেও বিচলিত নন কার্লোস। তার সহজ উত্তর, ‘দরকার কী? বিশ্বকাপে যারা কম ভুল করবে, তারাই চ্যাম্পিয়ন হবে।’






