যে কারণে বাংলাদেশি ক্রিকেটারের আত্মহত্যার চেষ্টা!
স্পোর্টস ডেস্ক : ক্যাম্পে জায়গা না পেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় ইশমা তানজিম। তার দাবি, অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে ক্যাম্প থেকে। ফিট থাকা সত্ত্বেও ইনজুরির অজুহাতে তাকে বাদ দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে দলে র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন। রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে কথা বলেছেন ইশমা। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মোশাররফ হোসাইন।
মোশারফ হোসাইন: আপনি হাসপাতালে ভর্তি, কী ধরনের অসুস্থতা?
ইশমা তানজিম: আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম। জানি না, আমার পরিবার কীভাবে বুঝেছে। আমি এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছি। শুক্রবারের ঘটনা। আমি ৩ দিন আইসিইউতে ছিলাম। আজই জ্ঞান ফিরেছে। বলে না, মানুষ কেন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়— ছেলেরা মেয়ের জন্য মরে, মেয়েরা ছেলের জন্য। ভালোবাসে বলেই মরে। আমি ক্রিকেটকে ভালোবেসে মরতে গিয়েছিলাম। আর নিতে পারছিলাম না। যখনই আমি দেখেছি ২১ জনের মধ্যে আমি নেই, তখনই এই সিদ্ধান্তটা নিই।
মোশারফ হোসাইন: কী কারণে আপনি দল থেকে বাদ পড়েছেন?
ইশমা তানজিম: আমাকে প্রথমে বলা হয়েছে ইনজুরি। কিন্তু আমি তো ফিট। আমার ইনজুরি ছিল, শেষ সপ্তাহ চলে গেছে। তবে কোচ ও ট্রেনার আমাকে বারবার বলেছেন, ফিজিও থেকে আমার নামে মেইল আসেনি। আমি ফিজিও ম্যামকে (সুরাইয়া আক্তার) নক করেছি। তিনি ইংল্যান্ডে হয়তো ব্যস্ত ছিলেন, যে কারণে হয়তো ইমেইল করতে পারেননি। আমাকে যে কারণে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের ধারণা আমি এখনো শতভাগ ফিট হতে পারিনি।
সত্যি কথা বলতে, এই ট্যুরে সুযোগ পাইনি বলে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা নয়, এর আগেও আমি অন্যায়ের শিকার হয়েছি। আমার সঙ্গে সবচেয়ে বড় অন্যায় হয়েছিল ২০২৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময়। এর আগে বিসিএলে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় হয়েও তখন আমি দলে সুযোগ পাইনি। পারফর্ম করেও যদি দলে সুযোগ না পাই, তাহলে আমি কেন খেলব?
মোশারফ হোসাইন: কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ? আপনার সঙ্গে অন্যায় করছেন কে বা কারা?
ইশমা তানজিম: আমি যদি অনেক বড় খেলোয়াড় হতাম, তাহলে আপনার প্রশ্নের উত্তরটা দিতে পারতাম। আমি এত কিছু জানি না, আমার সঙ্গে অন্যায় কে করছে, কেন করছে, কিসের ভিত্তিতে করছে, কী কারণে করছে। আমি চাই, আমার মতো অন্যায় কারও সঙ্গে না হোক।
আত্মহত্যার চেষ্টা করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে ইশমা তানজিম তার পুরস্কারগুলো ভেঙে ফেলেন।
মোশারফ হোসাইন: যাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ, তারা দল থেকে বাদ দেয়ার জন্য আপনাকে কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন?
ইশমা তানজিম: প্রধান কোচ আমাকে বলেছেন, ট্রেনার বলছেন আমি নাকি পরবর্তী ক্যাম্পের জন্য ফিট হব না। আমি ট্রেনারকে ফোন দিয়েছি, তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। আমি তো আরও বলেছি, তুমি ইমপ্রুভ করছ। কেন এ কথা আসল, আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এটা মনে হয় ফিজিও করেছে।’
আমি আবার ফিজিওর সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। ফিজিও ম্যাম বললেন, ‘তুমি তো সব দিক থেকেই ইমপ্রুভ করছ। এটা মনে হয় ট্রেনার করেছে।’ পরে ফিজিও ম্যাডামকে বললাম, আপনাদের এসবের কারণে আমি সাফার করছি। এরপর আমি নির্বাচক সালমা আপুকে কল দিয়েছি। উনি বলছেন, ‘তুই এখন হচ্ছিস জাতীয় দলে খেলার মতো ক্রিকেটার, তুই কিন্তু খেলায় মনোযোগী না।’
আমি একটা দোষই বোধহয় করেছি— ধানমন্ডিতে জন্ম নেওয়া। এমন কোনো দিন নেই, এমন কোনো রাত নেই, আমি ধানমন্ডির খোঁটা খাইনি। বার্গার খাওয়ার খোঁটা খাইনি। আমি তো পারফর্ম করেই জাতীয় দলে খেলেছি, সেখানে গিয়েও একই খোঁটা শুনেছি। আমি তো রান করেই খেলছি। আমি যদি বার্গারই খাই, আমি কি রান করতে পারতাম?
দলের ম্যানেজার ফাইয়াজ ভাইয়া (এস এম গোলাম ফাইয়াজ), উনি এমন কোনো দিন নেই, এমন কোনো মুহূর্ত নেই— সবসময় একটাই দোষ ধরতেন, ধানমন্ডি আর বার্গার। আমার ব্যাটিংয়ের কেউ ভুল ধরে না। কেউ বলে না, তোর ব্যাটিংয়ের ড্রাইভ ঠিক কর। শুধু আমাকে একটাই কথা বলা হয়।
এসব কেন বলে জানেন? কারণ আমি সবাইকে দেখলে ১০ বার সালাম দিই না। আমার কি দিনে প্রতিবারই সালাম দিতে হবে? একবার সালাম কি যথেষ্ট না?
আমার সঙ্গে পুরোপুরি র্যাগিং হয়েছে। উৎসাহ আমি কখনো পাইনি। আমাকে সবসময় দলে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
মোশারফ হোসাইন: ক্রিকেট কি ছেড়ে দিচ্ছেন?
ইশমা তানজিম: হ্যাঁ। আমি কেন ক্রিকেট খেলব? কারণ দেখান।
দ্রষ্টব্য: সাক্ষাৎকারটি দেয়ার পর রোববার রাতেই ইশমা তানজিম হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে বাসায় ফিরেছেন। বর্তমানে তিনি বাসাতেই আছেন।-সময় নিউজ.টিভি






