যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিশ্বকাপের বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আর্জেন্টিনা ও মিশরের রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, যেখানে মিসরের দ্বিতীয় গোলটি অনেকক্ষণ পর বাতিল করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে যাওয়ায় ম্যাচের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার অভিযোগ, ফিফা চেয়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে। তার ভাষ্য, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।’ প্রতিবেদন আল-জাজিরার।
তিনি আরও বলেন, ‘ফুটবলে অনেক সময় প্রযুক্তিগত বিষয়ের বাইরে কিছু প্রভাব কাজ করে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সব স্তরেই সমর্থন পেয়েছে।’ হাসানের দাবি, ম্যাচ কর্মকর্তাদের ওপর এমন চাপ থাকতে পারে যাতে আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি বিশ্বকাপে টিকে থাকেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ম্যাচটিকে ‘ডাকাতি’ বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনিহো-ও এটিকে ‘দিনের আলোয় ডাকাতি’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে ফুটবল বিশ্লেষক আলি এল গার্নির মত কিছুটা ভিন্ন। তার ভাষায়, ‘রবড বলা হয়তো অতিরঞ্জিত হবে। তবে ৫০-৫০ সিদ্ধান্তগুলোর প্রায় সবই আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে।’ তার দাবি, মিশরের বাতিল হওয়া গোলের আগে ফাউল ছিল; এ নিয়ে বিতর্ক কম। আসল প্রশ্ন হলো, গোল হওয়ার আগে ভিএআর কত দূর পর্যন্ত পেছনের ঘটনা পর্যালোচনা করতে পারে?
একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি একই পরিস্থিতিতে গোলটি আর্জেন্টিনা করত, তাহলে কি সেটিও বাতিল করা হতো? আমার মনে হয়, সম্ভাবনা খুবই কম।’ তার মতে, আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মোহাম্মদ সালাহর ওপর ফাউলের অভিযোগ থাকলেও সেখানে ভিএআর কোনো হস্তক্ষেপ করেনি।
বার্তা বাজার/এস এইচ






