মেসির আর কোন অপূর্ণতা থাকবে না যে রেকর্ড করতে পারলে
স্পোর্টস ডেস্ক : এক বিশ্বকাপেই ১৩ গোল! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনই এক রেকর্ড রয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপে। ফরাসি কিংবদন্তি ফুটবলার জাস্ট ফন্টেইনের করা এক বিশ্বকাপে ১৩টি গোলের রেকর্ডটি ভাঙতে পারেননি কেউই। তবে এবারের বিশ্বকাপে একের পর এক গোল করে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপ্পেরা। অনেক মনে করছেন, ভাগ্য সহায় হলে ফন্টেইনকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন এই দুই ফুটবলারের একজন।
লিওনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে- দুজনই ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে এখন পর্যন্ত করেছেন আটটি করে গোল। তাদের দলও ইতোমধ্যে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। সেখানে জিতলে কিংবা হারলেও দুটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন দুজনই। জিতলে খেলবে ফাইনালে, হারলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের বড় জয় উপহার দিয়েছিলেন মেসি। পরের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নেমে করেছিলেন দুই গোল। সেই ম্যাচে আলবিসেলেস্তেরা জেতে ২-০ গোল ব্যবধানে। আর জর্ডানের বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে একটি গোলের দেখা পেয়েছিলেন এই ফুটবল জাদুকর।
এদিকে নকআউট পর্বে মোট তিনটি ম্যাচ খেলে দুটি গোল করেছেন মেসি। একমাত্র কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পাননি কোনো গোলের দেখা।
কিলিয়ান এমবাপ্পে
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের মধ্যে দুটোতে গোল পেয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। নরওয়ের বিপক্ষে গোল পাননি তিনি। সেনেগাল এবং ইরাকের বিপক্ষে খেলতে নেমে করেছিলেন দুটো করে গোল। এদিকে সেরা বত্রিশের খেলাতেও দুটি গোল করেছেন এই ফরাসি স্ট্রাইকার। আর পরের দুই ম্যাচে পেয়েছেন একটি করে গোল।
১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফন্টেইন
১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে একাই দুটো হ্যাটট্রিক করেছিলেন জাস্ট ফন্টেইন। একটি গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে, অন্যটি তৃতীয় স্থান নির্ধারণীতে। গ্রুপ পর্বে তার গোল সংখ্যা ছিল ছয়টি। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তিনটি, যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটি। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে দুটি ও সেমিফাইনালে একটি গোল করেছিলেন তিনি। আর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে একাই করেছিলেন চারটি গোল। ওই ম্যাচে পশ্চিম জার্মানিকে ৬-৩ গোল ব্যবধানে হারিয়েছিল ফন্টেইনের ফ্রান্স।
ফন্টেইনের রেকর্ড অক্ষত থাকার সম্ভাবনা কতটুকু?
এবারের বিশ্বকাপে আটটি করে গোল করেছেন মেসি ও এমবাপে। এছাড়া সেমিফাইনালিস্ট ইংল্যান্ডের দুই ফুটবলার হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহ্যাম করেছেন ছয়টি করে গোল। আপাতদৃষ্টিতে এই চারজনই আছেন ফন্টেইনের রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে ফন্টেইনের রেকর্ড ভাঙাটা এতটাও সহজ কাজ হবে না।
সর্বোচ্চ দুটি করে ম্যাচ খেলতে পারবেন সবাই। আর ফন্টেইনের রেকর্ড ভাঙতে হলে মেসি ও এমবাপ্পেদের করতে হবে অন্তত ছয়টি গোল। রেকর্ড স্পর্শ করতে লাগবে পাঁচটি। অতিমানবীয় পারফরম্যান্স ছাড়া এই রেকর্ড ভাঙা সম্ভব নয়। অন্যদিকে কেইন কিংবা বেলিংহ্যামের জন্য কাজটা আরও কঠিন।






