নিজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের আসল রহস্য জানালেন শরিফুল
স্পোর্টস ডেস্ক : চোটের কারণে প্রথম টেস্টের দলে ছিলেন না শরিফুল ইসলাম। তবে ফিটনেস টেস্টে পাস করার পর একাই পাড়ি দেন ক্যাঙ্গারুদের দেশে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে সুযোগ পেয়েই করলেন টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের সেরা বোলিং।
প্রথম দিন শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৬৫ রানে ৮ উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের চাপে রেখেছেন শরিফুল। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম ১৩ টেস্টের ২৩ ইনিংসে তার শিকার ছিল ২৭ উইকেট। ১৪তম ম্যাচে এসে নিজের প্রথম ফাইফারের দেখা পেলেন শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে; তাও তাদেরই মাটিতেই। শরীফুল জানালেন, প্রতিপক্ষের বোলারদের দেখেই এমন বোলিং করেছেন তিনি।
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থা অস্ট্রেলিয়ার চেয়েও বাজে। মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অজিদের হয়ে মাত্র ১২ রানেই ৬ উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক। প্যাট কামিন্সের শিকার তিনটি। তাদের বোলিং খুব মনোযোগ দিয়ে দেখে একইভাবে বল করার চেষ্টা করেছেন শরিফুল। এই চেষ্টায় সফল তিনি।
শরিফুল বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা বরাবরই খুব ভালো করে। ওদের বোলাররা লিজেন্ড, তারা ভালো করেছে। দেখছিলাম কোন লেংথে বল করলে বোলারদের জন্য বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়।’
নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে অল্পতেই আটকে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে অজিদের আরও কাবু করতে চান শরিফুল, ‘নতুন বলে সব সময়ই সুইং করেছে। ১৫-২০ ওভার পর্যন্ত সুইং করেছে। ওরা এই সুবিধা কাজে লাগিয়েছে। হয়তো পরবর্তীতে আমরাও এই সুযোগ কাজে লাগতে চেষ্টা করব।’
নিজের প্রথম ৫ উইকেট পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে শরিফুল বলেন, ‘অনুভূতি অবশ্যই ভালো। প্রথমত, ধন্যবাদ জানাই আল্লাহতাআলাকে। গতবার যেটা পেয়েছিলাম, ওটাও ভালো লেগেছিল। সত্যি আরও ভালো লাগত, যদি ম্যাচটা (মিরপুরের ওয়ানডে) জিততাম। ৫ উইকেট পেয়েছি বলে আমি এখনই খুব খুশি নই। যদি ম্যাচ জিতি তবে অনেক খুশি হবো।’
শরীফুল ৬ উইকেট নেওয়ার আগে আজ অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্কও নিয়েছেন ৬ উইকেট। শরিফুল বলেছেন, বোলিংয়ে দুজনই পেয়েছেন ম্যাকাইয়ের বাতাসের সহায়তায় ‘আপনারা খেলা দেখেছেন। নতুন বলে সব সময় সুইং করছিল, প্রায় ২০-২৫ ওভার পর্যন্ত। ওরা সেই সুবিধা কাজে লাগিয়েছে।’
ম্যাচের এক দিনেই পড়েছে ১৮ উইকেট, শেষ হয়ে গেছে প্রায় দুই ইনিংস। এই টেস্টে ফলাফল তাই অনিবার্যই। শরিফুলের আশা, পরের ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ঘুরে দাঁড়াবেন। সে ক্ষেত্রে সেই ফলাফলটা আসতে পারে তাদের দিকেও, ‘ইনশাআল্লাহ, এখনো তো খেলা শেষ হয়নি। কেবল প্রথম দিন গেল। ব্যাটিংয়ে আজ আমাদের একটি খারাপ দিন গেছে। তবে তারাও তাদের কন্ডিশনে অনেক সংগ্রাম করছে। দেখা যাক কী হয়, আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারি।’
অস্ট্রেলিয়ায় ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের রহস্য কী, জানালেন শরিফুল
ব্যাটিংটা ভালো না হলেও শরিফুলের সৌজন্যেই প্রথম দিনেই বাংলাদেশ টেস্ট থেকে ছিটকে যায়নি, বরং ম্যাচে আছে ভালোভাবেই। তবে সেটা ধরে রাখতে হলে কাল সকালে অস্ট্রেলিয়ার লিডটা দ্রুত থামিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো ব্যাটিংটা জরুরি। শরিফুলও বলেছেন, ‘আমরা এখনো খেলার মধ্যে আছি। ইনশা আল্লাহ, আমরা চেষ্টা করব দ্বিতীয় ইনিংসটি যাতে আমাদের পক্ষে থাকে। সবার সঙ্গে কথা হয়েছে, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে।’
শরিফুল প্রশংসা করেছেন স্টার্কের বোলিংয়েরও, ‘ওনার বোলিং আমার ভালো লাগে। দেশে আমার আদর্শ মোস্তাফিজ ভাই, তবে সুইংয়ের জন্য ওনাকেও পছন্দ করি। একই ম্যাচে উনিও ৬ উইকেট পেয়েছেন, আমিও পেয়েছি—এটি খুব ভালো লাগার বিষয়।’






