ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

‘রোবটই শুধু জবাব দেয়’, সাপোর্ট না পেয়ে মার্কিন আদালতে ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটররা

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:২৩ পিএম

‘রোবটই শুধু জবাব দেয়’, সাপোর্ট না পেয়ে মার্কিন আদালতে ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটররা

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা এবং একদল ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মধ্যে নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ের মঞ্চে পরিণত হয়েছে। মামলার পরিমাণ—১ লাখ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন গেটি ইমেজেসের সাবেক ফটোজার্নালিস্ট মেল বুজাদ।  যিনি গত আট বছর ধরে ফেসবুকের বিভিন্ন জনপ্রিয় পেজ পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

বুজাদ বলেন, ‘ফেসবুকের অ্যালগরিদমকে ধরতে পারলেই পোস্ট ভাইরাল হয়। একবার ভাইরাল হলে পরের পোস্টও অ্যালগরিদমে ঠেলে দেওয়া হয়, এতে আয় বাড়ে।’

এক সময় তার পেজগুলো থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় হতো। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তার ১২টি পেজ মিলিয়ে ৬৮ হাজার ডলার বোনাস আয় করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পাঁচটি পেজে ‘মানিটাইজেশন নীতিমালা লঙ্ঘন’ দেখিয়ে অর্থ উপার্জন বন্ধ করে দেয় মেটা।

মেটার অভিযোগ ছিল, বুজাদের অ্যাকাউন্ট নাকি এমন একটি দেশে (মাল্টা) পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ফেসবুকের অর্থনৈতিক সুবিধা প্রযোজ্য নয়। কিন্তু বুজাদ যুক্তরাষ্ট্রেই থাকেন এবং ওয়েলস ফার্গো ব্যাংক ব্যবহার করেন। 

বুজাদ বলেন, ‘আমি মাল্টা কখনোই যাইনি’।

২০টিরও বেশি সাপোর্ট টিকিট দেওয়ার পরও কোনও সমাধান না পেয়ে তিনি ওরেগনের একটি আদালতে  মামলা করেন। প্রথম মামলায় ২,৪৯৮ ডলার বকেয়া পাওনা ও ৪০৯ ডলার মামলা ব্যয় দাবি করেন। আদালতের নোটিশের পর মেটা তার পেজ পুনরায় চালু করে এবং অর্থ পরিশোধ করে।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়—পরের কয়েক মাসে আরও ছয়টি মামলা করেন বুজাদ। তার দাবি, মেটা মোট ৪০ হাজার ডলারের বেশি বকেয়া রেখেছে।

বুজাদসহ আরও অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর অভিযোগ করেছেন, মেটার সহায়তা ব্যবস্থা এখন প্রায় সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়—মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ নেই। ফলে ভুলভাবে ‘লিমিটেড অরিজিনালি অফ কনটেন্ট’ বা ইনয়েলিজিবল কান্ট্রি’ দেখিয়ে পেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ফেসবুকের ‘মেটা ভেরিফায়েড’ সাপোর্টের জন্য অর্থ দিয়েও তারা সহায়তা পাননি।

বুজাদ বলেন, ‘আগে আমাদের একজন পার্টনার ম্যানেজার ছিল, এখন তা নেই। এখন কেবল রোবটই জবাব দেয়।’

বুজাদের মামলায় আরও কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর যুক্ত হয়েছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন, তারা ১০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয়ের অর্থ পাননি।

এক নির্মাতা জানান, তার ট্যাক্স তথ্য সম্পাদনা করতে না পারায় অ্যাকাউন্ট স্থগিত হয়ে গেছে। আরেকজন বলেন, বছরের পর বছর অপেক্ষার পরও মেটা কেবল ‘পুরনো কাগজপত্রে ট্রান্সফার ফর্ম’ পাঠিয়েছে, কিন্তু অর্থ দেয়নি।

একজন সঙ্গীতনির্ভর পেজের মালিক জানান, ‘মেটা সবাইকে অবহেলা করছে। আমরা ন্যায়সঙ্গত পারিশ্রমিক চাই, কিন্তু তাদের সাপোর্ট সিস্টেমে কোনও নির্ভরযোগ্যতা নেই।’

তিনি আরও জানান, তার ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে এই বকেয়া অর্থ না পাওয়ায়।

বুজাদ শুধু নিজের জন্য নয়, আরও ২৫ জন নির্মাতার পক্ষ থেকেও মামলা করেছেন—এটি মার্কিন আদালতের জন্য বিরল ঘটনা। তিনি দাবি করছেন, ওই নির্মাতারা “ অ্যাসাইনমেন্ট অব ক্লেইমস” প্রক্রিয়ায় তার হাতে আইনি প্রতিনিধিত্বের অধিকার দিয়েছেন।

তবে মেটা বলেছে, তাদের টার্মস অব সার্ভিসে স্পষ্টভাবে অন্য কারও কাছে অধিকার হস্তান্তর নিষিদ্ধ।

এ পর্যন্ত বুজাদ ৩২টি মামলা করেছেন। এর মধ্যে ৮টি সমাধান হয়েছে, ৯টি বাদ পড়েছে, আর ১৫টি এখনও চলমান। আদালত সম্প্রতি এসব মামলাকে একত্রিত করে মোট ১১৫,০০০ ডলার দাবির একক মামলায় রূপান্তর করেছে।

বুজাদের বক্তব্য, ‘মেটা চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তারা অস্পষ্ট অভিযোগে পেজ বন্ধ করে, অর্থ আটকে রাখে, আপিল উপেক্ষা করে। আমি শুধু চাই পেজগুলো ঠিক হোক আর বকেয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হোক।’

সূত্র: এনগেজেট

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন