ঢাকা   বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

লালপুরে চলছে মিঠা পানির মাছের শুটকি উৎপাদন, রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৫ পিএম

লালপুরে চলছে মিঠা পানির মাছের শুটকি উৎপাদন, রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামে এখন চলছে মিঠা পানির মাছ থেকে শুটকি উৎপাদনের ধূম। গ্রামে প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ী শুটকি উৎপাদন করছেন।  প্রতি বছর অক্টোবর মাস থেকে পরবর্তী মার্চ মাস পর্যন্ত এখানকার ব্যবসায়ীরা শুটকি উৎপাদন করে। এখানকার উৎপাদিত শুটকির গুনগত মান খুবই ভালো ও খুবই মানসম্মত। তাই এখানকার উৎপাদিত শুটকি বিদেশেও রপ্তানী হয়।

তবে মৌসুমের শুরুতেই শুটকি ব্যবসায় বিপুল পরিমান অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় শুটকি ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে চড়া সুদে দাদন ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও সংস্থার কাছ থেকে টাকা নেন। এতে  শুটকির ব্যবসার লাভের বড় একটা অংশ চলে যাচ্ছে দাদন ব্যবসায়ী ও এনজিও প্রতিষ্ঠানের হাতে। এ অবস্থায় অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সহজশর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারন  উৎপাদনকারীরা অনেকটাই লাভবান হতেন।

তবে রাষ্ট্রায়াত্ত কৃষি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছেন, সহজ শর্তে জামানতবিহিনী ঋণ  প্রদানে কার্যকরী পদক্ষপে গ্রহন করেছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মেঘনার তীরবর্তী আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামে মেঘনা তীরে সারি-সারি ভাবে স্থাপন করা হয়েছে বাঁশের মাচা। এসব মাচায় মেঘনা এবং হাওর অঞ্চলের মিঠা পানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরন করে শুকানো হচ্ছে।

বিশেষ করে পুটি, টেংরা, শোল, টাকি, চাঁন্দা, আইর, বাইম, বাতাসি, গইন্না এবং মেনি মাছের শুটকিই অন্যতম। পঁচনরোধে ক্যামিকেল ছাড়া দেশীয় নানা প্রক্রিয়া অনুসরন করে তপ্ত রোদে শুকানো হয় এই মাছের শুটকি গুলো। পরে দ্বিতীয় ধাপে প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে বিক্রয়ের উপযোগী করে তোলা হয় এই শুটকি। এর মধ্যে পুটি মাছের চ্যাপা শুটকি উৎপাদন অন্যতম।

এসব মাছ শুকানোর জন্যে মাচা তৈরি থেকে শুরু করে মাছ কেনা, মাছ শুকানো, দেশে এবং বিদেশে রপ্তানি করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন হয় কয়েক কোটি টাকার অংকের পুঁজি। আর এই পুঁজি সংগ্রহ করতে ব্যবসায়ীরা দারস্থ হচ্ছেন দাদন ব্যবসায়ী কিংবা এনজিও সংস্থা সহ বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে।

লালপুরের শুটকি ব্যবসায়ী সত্যরঞ্জন দাস বলেন, আমাদের এই লালপুরে অনেক ধরনের মাছ আছে। যেমন পুটি, টেংরা, শোল, টাকি, চাঁন্দা, আইর মাছসহ অনেক মাছ। এসব মাছ শুটকি করতে যত অনেক পুঁজি লাগে। ৫০ হাজার থেকে ৫কোটি টাকা পর্যন্ত পুঁজি খাটানো যায়। কিন্তু এখান থেকে লাভ বের করতে গেলে অনেক কষ্ট করতে হয়। এখানের শুটকি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাসহ দেশের বাইরেও বিক্রি করা হয়। আমাদের পুঁজি সংগ্রহ করতেই কষ্ট হয়। আমরা অনেক সময় ভৈরব থেকে বাকিতে মাছ কিনি। তাছাড়া ২০/৫০ লাখ টাকা সুদে এনেও ব্যবসা করতে হয়। এভাবেই আমরা কোনো ভাবে চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা ব্যাংক থেকে কোনো সাহায্য পাই না। যদি ব্যাংক থেকে আমাদের কিছু ঋন দিতো তাহলে আমরা ব্যবসাটা আরো ভালো ভাবে করতে পারতাম।

পবিত্র দাস নামে আরেক শুটকি ব্যবসায়ী বলেন, এখন এই ব্যবসাটি আমরা লোন নিয়ে, সুদ দিয়ে বাকি রেখে কোনোভাবে চালিয়ে যাচ্ছি। সরকার থেকে যদি এ ব্যাপারে আমাদের একটু সহযোগিতা করতো তাহলে আমরা আরো ভাল ভাবে চলতে পারতাম।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুরে একটি শুটকি পল্লী রয়েছে। সেখানে প্রায় শতাধিক শুটকি উৎপাদনকারী রয়েছে। আমরা গত অর্থবছরে ২০জন উৎপাদনকারীকে এফইউ এর অধীনে প্রশিক্ষন দিয়েছি। লালপুরের  শুটকি খুবই মানসম্মত, কারণ সেখানে কোনো বালাইনাশক ব্যবহার করা হয় না। ব্যাংক থেকে ঋন দেয়ার যে শর্তগুলো আছে সেটি উৎপাদনকারীদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। সহজ শর্তে তাদেরকে ঋন দেয়া উচিত। এ ব্যাপারে আগামী মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। যেন তারা সহজেই ঋন  গ্রহণ করতে পারে।

এদিকে সম্ভাবনাময় শুটকি খাতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হলে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.জেড.এম আরিফ হোসেন বলেন, এই শিল্পকে যদি উৎসাহ দেয়া যায়, তাহলে দেশের জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। সেজন্য আমরা মনে করি এটি সম্ভাবনাময় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। এখন প্রতিটি ব্যবসায়ী পুঁজি সংগ্রহ করতে গিয়ে দারস্থ হচ্ছেন দাদন ব্যবসায়ী কিংবা এনজিও সংস্থাসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে। এতে বছরে লাভের বড় একটা অংশ চলে যাচ্ছে ওই সব প্রতিষ্ঠানের হাতে। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে যদি তাদেরকে ঋণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করা যায় সেটি আমরা মনে করি ভাল হবে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি ব্যাংকের মূখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউছুফ খান জানান, কৃষি ব্যাংক থেকে শুটকি ব্যবসায়ীদের জন্যে সহজ শর্তে ঋনের সুযোগ আছে। গত বারের মতো এবারো ঋণের ব্যাপারে শুটকি মাছ ব্যবসায়ীদের উদ্ধুদ্ধ করা হবে। ব্যবসায়ীদের তালিকা করে তাদেরকে ম্যাসেজ দেয়া হবে। প্রয়োজনে শুটকি পল্লী এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও লাগানো হবে।

প্রতি বছর অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বছরে ৬ মাস এই শুটকি ব্যবসায় জমজমাট থাকে। আর এই সময়টাতে নতুন পুরাতন মিলিয়ে অন্তত শত কোটি টাকার বেশি শুটকি মাছ দেশে ও বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে।

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন