বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র ৯ দিন বাকি। ঠিক এই মুহূর্তে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ প্রকাশ করল এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভারতে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতাদের গোপন তৎপরতা, তাদের বিলাসী জীবনযাপন এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ‘মাস্টারপ্ল্যান’।
গার্ডিয়ানের দাবি, বাংলাদেশে যারা হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দুর্নীতির দায়ে পলাতক আসামি, তারাই এখন কলকাতার শপিং মলের ফুড কোর্টে বসে কফিতে চুমুক দিতে দিতে কষছেন রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ছক। তারা বিশ্বাস করেন, শেখ হাসিনা কোনো পলাতক আসামি নন, বরং ‘বীর’ হিসেবেই ফের বাংলাদেশে ফিরবেন।
দিল্লির গোপন আস্তানায় শেখ হাসিনার দিনরাত্রি
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তায় ঘেরা একটি গোপন আস্তানায় অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও, তিনি বসে নেই।
ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বরাতে গার্ডিয়ান জানায়, শেখ হাসিনা দিনে প্রায় ১৫-১৬ ঘণ্টা সময় ব্যয় করছেন ফোনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। তৃণমূলের নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে তিনি নিয়মিত বৈঠক করছেন।
সাদ্দাম হোসেন গার্ডিয়ানকে বলেন, “আমাদের নেত্রী অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি বিশ্বাস করেন, তিনি বীরের বেশেই দেশে ফিরবেন। তিনি আমাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করছেন।”
কলকাতায় বিলাসী জীবন ও নির্বাচন ভণ্ডুলের ছক
গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনে কলকাতার চিত্র তুলে ধরেছে। সেখানে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি এবং শীর্ষ নেতারা শপিং মলের ফুড কোর্টে বসে আসন্ন নির্বাচন ভণ্ডুল করার পরিকল্পনা করছেন।
দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক গার্ডিয়ানকে বলেন, “আমরা আমাদের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি এই প্রহসনের নির্বাচনে অংশ না নিতে। ভোট বর্জন এবং সব ধরনের প্রচার থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।”
অন্যদিকে, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন দাবি করেছেন, তারা কারাগারের ভয়ে দেশ ছাড়েননি। তার ভাষায়, “দেশে ফিরলে আমাদের হত্যা করা হবে, তাই আমরা এখানে। তবে আমরা ফিরবই।”
অনুতপ্ত নন নেতারা, গণ-অভ্যুত্থানকে বলছেন ‘ষড়য’
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করলেও, নির্বাসিত নেতাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি।
কলকাতার উপকণ্ঠে বিলাসবহুল বাড়িতে থাকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম গার্ডিয়ানকে বলেন, “ওটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লব ছিল না। সন্ত্রাসীরা একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করেছে মাত্র।” তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশে শান্তি আসবে না এবং জনগণ শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কাছেই ফিরে আসবে।
আন্তর্জাতিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ও ভারত সরকারের ভূমিকা
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। অথচ ভারত সরকার তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ উপেক্ষা করে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। গার্ডিয়ানের দাবি, শেখ হাসিনা ভারতে বসেই হাজার হাজার সমর্থককে উসকানি দিচ্ছেন এবং নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ—এমনটা তিনি মানতে নারাজ।






