প্রশাসনের সাম্প্রতিক আচরণকে ‘টেস্ট ম্যাচ’ আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘গতকাল প্রশাসনের আচরণ সবাই দেখেছেন যা ছিল এক ধরনের টেস্ট ম্যাচ। আবারও পুরোনো আওয়ামী কায়দায় পুলিশকে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে।’
শনিবার বেলা ১২টায় যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র ভৈরব চত্বরে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি কুমিল্লা-৪ আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে পোশাক পরেন, তা জনগণের আস্থার প্রতীক। আপনারা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে নয়। জনগণের জন্য কাজ করুন, কারণ জনগণের টাকায়ই আপনাদের বেতন।’
একটি দল মা-বোনদের হিজাব খুলে লাঞ্ছিত করছে, ভারতের দালালি করছে এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে লিপ্ত রয়েছে জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তারা বাংলাদেশের মানুষের প্রয়োজন, চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে না।
একদিন ওই দলের নেতারা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলেন, পরদিন তাদের কর্মীরা ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণা চালায়—এটাই তাদের দ্বিমুখী রাজনীতি যোগ করে তিনি জানান, ১১ দলীয় ঐক্যজোট ইনসাফের পক্ষে রয়েছে এবং বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে।
এ সময় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন উল্লেখ করে এই নেতা বলেন, প্রতিটি নেতাকর্মীকে মানুষের কাছে যেতে হবে। ভোট প্রার্থীর হাতে নয়, ভোট রয়েছে জনগণের হাতে; তা মনে রাখতে হবে।
এমনকি যিনি চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত, তিনিও তার সন্তানের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ চান। তাদেরও দাওয়াত দিতে হবে জানান তিনি।
একসময় ডিবি হারুন, বেনজীর আহমেদের মতো ব্যক্তিরাও চাপ প্রয়োগ করেছিল, কিন্তু আজ তারা কোথাও নেই—এমন মন্তব্য করে হাসনাত বলেন, ‘আপনারা জুলাইয়ের আন্দোলনের কথা ভুলে যাবেন না। গুলি ও গোলাবারুদ দিয়েও জনগণকে থামানো যায়নি। তাই গোলামি মানসিকতা পরিত্যাগ করুন।’
এই নির্বাচন আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তির নির্বাচন, রাষ্ট্রগঠনের নির্বাচন এবং ফ্যাসিবাদকে কবরস্থ করার নির্বাচন উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে এবং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পাহারা দিতে হবে। সেদিনই যশোরবাসী নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করবে।
সভা শেষে ভৈরব চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য নির্বাচনী মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।






