আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘না’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম। তিনি বলেছেন, ‘গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বাঁচবে, আর “না” ভোট বিজয়ী হলে দেশকে আর কেউ রক্ষা করতে পারবে না।’
শনিবার দুপুরে নেত্রকোনার জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নেত্রকোনা-৫ আসনের (পূর্বধলা) জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুম মোস্তফার জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের ওপর দুটি দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে উল্লেখ করে মাছুম বলেন, ‘একটি হলো “হ্যাঁ” ভোটকে বিজয়ী করা, আরেকটি হলো ১১ দলীয় জোটের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাসহ যেসব প্রতীক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, সেগুলোকে বিজয়ী করা। আপনারা নিজেরা এই দায়িত্ব পালন করবেন এবং ভোটারদেরকেও উদ্বুদ্ধ করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি ফ্যাসিস্ট সরকার দেখেছি, যারা অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার, হামলা-মামলা, গুম-খুন, নির্যাতন ও লুটপাটের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অন্ধকার যুগে পরিণত করেছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এত বেশি জুলুম হয়েছে যে তা আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকারকেও হার মানিয়েছে।’
একই সঙ্গে ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে পল্টন মোড়ে আমাদের ভাইদের লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং মরদেহের ওপর নৃত্য করা হয়েছে। এ সময়ের নিষ্ঠুরতা আইয়ামে জাহেলিয়াতের চেয়েও জঘন্য ছিল’, যোগ করেন তিনি।
নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যেখানে নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে না। নারীদের ওপর কেউ ইভটিজিং করতে পারবে না, স্বামী নির্যাতন করতে পারবে না, সম্পদ দখল করতে পারবে না কিংবা মিরাস থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। নারীদের শিক্ষা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হবে।
পাঞ্জাবিদের প্রসঙ্গ টেনে এই নেতা বলেন, দেশবাসী পাঞ্জাবিদের দোষারোপ করে বাংলাদেশের মা-বোনদের ওপর নির্যাতন ও লুটপাটের জন্য। কিন্তু শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে সেই পাঞ্জাবিরাও হার মানিয়েছে। দুর্নীতি ও লুটপাটে তারা নিমজ্জিত ছিল।
হাজারো আলেম-ওলামা, ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতাকে বছরের পর বছর জেলখানায় অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তখন ছোট জেলখানাই নিরাপদ ছিল, আর পুরো বাংলাদেশ পরিণত হয়েছিল এক ভয়ংকর কারাগারে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে অমুসলিমরা এ দেশে মুসলমানদের মতোই সমমর্যাদার নাগরিক হিসেবে বসবাস করবে আশ্বস্ত করে মাছুম জনান, কোনো অমুসলিমের ওপর জুলুম করা যাবে না, তাদের জমি দখল করা যাবে না কিংবা তাদের পূজায় হামলা করা যাবে না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের শাসন, চরিত্র ও মহানুভবতা দেখে অমুসলিমরাই উপলব্ধি করবে ইসলামের জীবনব্যবস্থা কত সুন্দর। আমরা জোর করে কাউকে মুসলমান বানাব না।’
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, মাসুম মোস্তফা, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ছাদিক আহমাদ হারিছসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।






