ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বড় বিপাকে ভারত, বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশও

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম

বড় বিপাকে ভারত, বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশও

বড় বিপাকে ভারত, বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশও

স্পোর্টস ডেস্ক : ভারত ও শ্রীলঙ্কায় চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আইসিসির কাছে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের আবেদন জানিয়েছিল। 

কিন্তু আইসিসি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তোলে এবং বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়, যদিও আইসিসি, বিসিবি ও পিসিবির সংলাপের পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।

শেষ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে গড়ালেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হয়ত বড় মাশুল গুনতে হবে ভারতকে। ক্রিকেটের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটি ২০২৯ ও ২০৩১ সালের আইসিসি ইভেন্টগুলোর আয়োজকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে ২০৩১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সহআয়োজকস্বত্বও অনিশ্চয়তায় পড়তে যাচ্ছে।

২০৩১ সাল পর্যন্ত ভারতের হাতে দুটি বড় পুরুষদের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আয়োজকত্ব আছে–২০২৯ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আইসিসি, বিসিসিআই ও পিসিবির মধ্যে হওয়া হাইব্রিড-মডেল চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ম্যাচ খেলবে না, সেটি পুরুষ বা নারী উভয় ক্ষেত্রেই। পরিবর্তে নিরপেক্ষ ভেন্যু নির্ধারণ করা হবে।

গত বছর পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আনুষ্ঠানিক আয়োজক থাকলেও, ভারতের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল দুবাইয়ে। এ বছর বিসিসিআই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করলে শ্রীলঙ্কাকে সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত করা হয়।

তবে দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়কার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারত ২০২৯ ও ২০৩১ সালের আইসিসি ইভেন্টের আয়োজকত্ব হারাতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসি বিকল্প আয়োজক হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে বিবেচনা করছে। ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহআয়োজক হিসেবে ভারতের সঙ্গে আছে বাংলাদেশও।

অস্থিরতার সূচনা হয় জানুয়ারির শুরুতে, যখন আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিসিসিআই আইপিএল দল থেকে বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়। এরপর বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে আইসিসির কাছে তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। আইসিসি সেই অনুরোধ মঞ্জুর করেনি। পরিস্থিতির সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করা হয়, যা পাকিস্তানকে ক্ষুব্ধ করে এবং তারা বয়কটের হুমকি দেয়।

এই বয়কট হুমকির ফলে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক আয় ঝুঁকির মুখে পড়ে। দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ম্যাচটি কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারত ৬১ রানে জয় পায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই বিশৃঙ্খলার পর আইসিসির শীর্ষ প্রশাসকরা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে এমন বিঘ্ন এড়াতে বিকল্প আয়োজক দেশ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।

বর্তমান ব্যবস্থায় ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের ম্যাচ আয়োজন করবে না। একই ধরনের বোঝাপড়া বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, যদিও সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বিসিসিআই ও বিসিবির মধ্যে এ বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।

যদি এই উত্তেজনা সময়সূচি ও সম্প্রচার চুক্তিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে, তবে আইসিসি ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ (যা বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত) অস্ট্রেলিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া ২০২৮ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করার কথা রয়েছে।

 

অস্ট্রেলিয়া এর আগে সফলভাবে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন করেছে। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৪১,৫৮৭ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন, আর ২০২২ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রেকর্ড ৯০,২৯৩ দর্শক ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ উপভোগ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চলও (টাইমজোন) উপমহাদেশীয় টিভি বাজারের জন্য অনুকূল বলে বিবেচিত হয়, বিশেষ করে প্রাইম-টাইম ম্যাচ সম্প্রচারের ক্ষেত্রে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন