ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন চাল’ কাজ করবে নাকি ঝুঁকি বাড়াবে?

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন চাল’ কাজ করবে নাকি ঝুঁকি বাড়াবে?

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘর্ষের পাশাপাশি এবার নতুন কৌশল হিসেবে নৌ অবরোধে ঝুঁকেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানি বন্দর থেকে প্রবেশ ও বহির্গমনকারী জাহাজের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। তবে প্রশ্ন উঠছে- এই অবরোধ আদৌ কার্যকর হবে, নাকি তা উল্টো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করবে?

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধের মূল লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করা। যুদ্ধের মধ্যেও ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের মাধ্যমে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে, যা থেকে তারা বিপুল রাজস্ব অর্জন করছে।

একটি সফল অবরোধ সেই আয়ের পথ বন্ধ করতে পারে, যা ইরানের যুদ্ধ সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি বলেন, সরাসরি সংঘর্ষের তুলনায় এই কৌশল কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাস্তবায়নযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে থেকে, বিশেষ করে ওমান উপসাগরে অবস্থান নিয়ে ইরানি জাহাজগুলোকে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

এতে সবচেয়ে বড় সুবিধা সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি কম। অন্যদিকে সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের প্রয়োজন নেই। আরেকটি সুবিধা হচ্ছে- ড্রোন, হেলিকপ্টার ও বিশেষ বাহিনী ব্যবহার করা সম্ভব।

তবে ঝুঁকি যে একেবারে নেই- বিষয়টা এমন নয়। বরং ঝুঁকির ধরন বদলেছে। সেক্ষেত্রে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা নৌ মাইন ব্যবহার করতে পারে। যাতে করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে খার্গ দ্বীপ দখল বা সরাসরি জাহাজ বহরের নিরাপত্তা দেওয়ার মতো পরিকল্পনাগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনৈতিক প্রভাব: বিশ্ববাজারে চাপ
এই অবরোধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে তেলের বাজারে। ধারণা করা হচ্ছে, তেলের দাম আরও বাড়বে। বৈশ্বিক সরবরাহে সংকট তৈরি হবে। এমনকি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

বিশেষজ্ঞ ডেভিড স্যাটারফিল্ড বলছেন, ইরান হিসাব করছে- তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই চাপে পড়বে এবং উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনের ওপর চাপ দেবে অবরোধ তুলে নিতে।

ইরানের সহনশীল কৌশল
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে হামলার মুখেও ইরান তাদের সক্ষমতা ধরে রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হিসাব হলো-তারা দীর্ঘ সময় চাপ সহ্য করতে পারবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে পারবে না।

জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা
এদিকে অবরোধ ঘোষণার পরই জাহাজ চলাচলে অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে। অনেক জাহাজ ইউ-টার্ন নিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে।

বিশ্লেষক মিশেল উইজ বকম্যান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নাবিকদের জন্য উদ্বেগজনক।

নীরব চীন গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইরানি তেল আমদানিকারক চীন। তাই অবরোধ দীর্ঘ হলে চীন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বেইজিং কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। আর যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এই চাপকেই কাজে লাগাতে চায়।

বড় ঝুঁকির খেলা
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ কৌশল এক ধরনের ‘হাই-স্টেকস গ্যাম্বল’। এটি সফল হলে ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হবে। যুদ্ধের গতি বদলাতে পারে। কিন্তু ব্যর্থ হলে তেলের দাম আরও বাড়বে। বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- এই লড়াই এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়। বরং অর্থনীতি, জ্বালানি ও কূটনীতির মঞ্চেও সমানভাবে চলছে।

সূত্র: বিবিসি

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!