প্রায় এক যুগ আগে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ অনেক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
এর আগে চব্বিশের অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলার রায়ে চৌধুরী মামুনকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গত বছর ১৭ নভেম্বর এই রায় দেওয়া হয়।
মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলায় রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হয়েছিলেন চৌধুরী মামুন।
শাপলা চত্বরের মামলায় তাঁকে আসামি করা হবে কিনা, জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, ‘কারা আসামি হতে যাচ্ছেন বা যাচ্ছেন না, এ বিষয়টা এখনই আমরা প্রকাশ করতে পারছি না। তবে আমরা চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অনেক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাচ্ছি।
শাপলা চত্বরে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ যেটা হয়েছে, সারা পৃথিবীর বিবেকবান মানুষকে যারা আহত করেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, সেটার মধ্যে আমরা যাদের সম্পৃক্ততা পাব, সেটা সিভিলিয়ান হোক, পুলিশ হোক, র্যাব হোক, আর্মি অফিসার হোক—প্রত্যেককে আমরা বিচারের আওতায় নিয়ে আসব। সেটা হতে পারে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, হতে পারে বেনজীর, হতে পারে জিয়াউল আহসান। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের আমরা বিচারের সম্মুখীন করব। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে আমরা চেষ্টা করছি মামলার প্রতিবেদন দিতে।
আরেক প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘একটি পার্টিকুলার ঘটনায় উনি অ্যাপ্রুভার হয়েছেন। সেখানে তাঁর সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি যদি থেকে থাকে, পার্টিকুলার ওই অংশের বিচার হয়েছে। উনার ওই সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি দিয়ে তো সব রেসপন্সিবিলিটি ঢেকে দিতে পারবেন না। আনেক আলাদা আলাদা কমান্ডের সঙ্গে উনি জড়িত আছেন। একটা কমান্ডের সঙ্গে আরেকটা কমান্ডকে একীভূত করে তো তাঁকে সব কিছু থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কোনো সুযোগ আমি দেখি না।
শাপলা চত্বরের ঘটনা আলাদা একটি ঘটনা। সেখানে আলাদা সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি। আলাদা ষড়যন্ত্র আছে। এখন একটা সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি থেকে উনি অব্যাহতি পেয়ে গেলে আরেকটা সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি থেকে অব্যাহতি পেয়ে যাবেন, এর কোনো অর্থ হতে পারে না। অন্য কোনো সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি মধ্যে যদি তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা আমরা পাই, নিশ্চয়ই তিনি আইনের আওতায় আসবেন।’
জানা যায়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশে নির্বিচার গুলি চালিয়ে শতাধিক কর্মী হত্যার কথা উল্লেখ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দেন হেফাজতে ইসলামীর যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক।
শেখ হাসিনা ছাড়াও ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও আছেন অভিযুক্তের তালিকায়। এ মামলায় গ্রেপ্তার আছেন আরো পাঁচ আসামি। তাঁরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির। এ মামলায় গত বছর ১৪ মে ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। গত ৫ এপ্রিল পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডলকে এ মামরায় জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






