চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বাকি টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে এক দোকানিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ক্যাম্পাসের কলা ঝুপড়ি এলাকায় একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দোকানি হামিদ মোহাম্মদ সুজন, যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দোকানে আড্ডার সময় সুজন জালাল সিদ্দিকীর কাছে ৩০ টাকা বাকি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে জালাল সিদ্দিকী দোকানির দিকে মারতে উদ্যত হন এবং দোকানের সামনে থাকা একটি টেবিল উল্টে দেন। টেবিলটি গিয়ে দোকানির ওপর পড়ে। পরে উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
দোকানি সুজন অভিযোগ করেন, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জালাল তাকে খামচে ধরেন এবং গলা চেপে ধরার চেষ্টা করেন। এতে তার দোকানের পণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, তার পক্ষ থেকে কোনো উসকানিমূলক আচরণ করা হয়নি।
তিনি জানান, প্রায় দুই মাস আগে ‘জালাল’ নামে একজন তার দোকান থেকে বাকি খেয়েছিলেন। সেই সূত্রে বিষয়টি তার মনে ছিল। ঘটনার দিন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় দোকানে এলে তিনি বকেয়া টাকার বিষয়টি জানান। পরে হৃদয় কনসার্টে চলে যান।
সুজন আরও বলেন, কনসার্টে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর জালাল সিদ্দিকী এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মারতে উদ্যত হন। ঘটনার পর জালাল তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেও এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ দেননি। এ বিষয়ে অধ্যাপক জাহিদুর রহমান চৌধুরীর মধ্যস্থতায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জালাল সিদ্দিকী বলেন, তার নামে কেউ বাকি খেয়েছে কিনা তিনি জানেন না। তবে দোকানি বিষয়টি সবার কাছে বলে বেড়াচ্ছিলেন। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে দোকানির মন্তব্যে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ধাক্কা দেন, তবে মারধর বা ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় জানান, তারা কনসার্টে যাওয়ার আগে দোকানে বসলে দোকানি অভিযোগ করেন, নেতাকর্মীরা খাবারের টাকা দেন না। তখন জালাল নামে একজনের কাছে ৩০ টাকা পাওনার কথা বলা হলে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে তারা কনসার্টে গেলে দোকানে ভাঙচুরের খবর পান।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ঘটনাটি শুনেছেন এবং সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান চৌধুরী জানান, দোকানি সুজন অসচ্ছল হওয়ায় তাকে সহায়তা করে দোকানটি করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করবেন।
ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






