কুষ্টিয়ায় বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যকার দ্বন্দ্বে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার প্রায় সব পথেই বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুধু ঢাকাগামী বাস চলছে। এতে যাত্রী সহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক চুক্তিভিত্তিক ভাড়াকৃত বাসগুলো দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বাস ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
কুষ্টিয়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন জানায়, বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের মতই কুষ্টিয়া-খুলনা-যশোর পথে শ্রমিক ইউনিয়নের বাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু শ্রমিক ইউনিয়নের পরিবহনকে সুযোগ সুবিধা না দেওয়ায় দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।
কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপ জানায়, এক সপ্তাহ আগে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা তাদের দু’টি দাবির কথা জানান। একটি হল- পরিবহন চালানোর জন্য মালিকরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পায়, তাদেরও একই সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। দ্বিতীয়টি হল- শ্রমিক সংগঠনের মালিকানার একটি বাস কুষ্টিয়া-খুলনা পথে চলাচলের অনুমোদন দিতে হবে।শ্রমিকদের এসব দাবি পূরণ না করায় তারা শুক্রবার সকাল থেকে সব পথে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। শুধু কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী পথে বাস চলছে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষার্থী কুষ্টিয়া শহরে অবস্থান করেন। অধিকাংশ বিভাগে কাল (শনিবার) ক্লাস/পরীক্ষা রয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে আরও ভোগান্তিতে পড়বে শিক্ষার্থীরা। আগামীকাল (শনিবার) সকাল ১১ টায় বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের সঙ্গে প্রশাসন বসবেন। আলোচনা সাপেক্ষে সমাধান হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে দুঃখ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ জানান, “কুষ্টিয়া বাস মালিক সমিতি/শ্রমিক সংগঠনের ডাকে ধর্মঘটের কারণে বাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আগামীকাল (শনিবার) তাদের ভাড়াকৃত বাস সমূহ (প্রায় ১০টি) পরিচালনা করতে পারবে না। এমতাবস্থায়, নিজস্ব এবং বি.আর.টি.সি বাসের মাধ্যমে আগামীকাল পরিবহন সেবা প্রদান করতে হবে। সম্ভাব্য ক্রাইসিস বিবেচনায় নিয়ে ক্লাস/পরীক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আকস্মিক এবং অনাকাঙ্খিত সম্ভাব্য অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।”
বার্তা বাজার/এস এইচ






