ইসরায়েল কর্তৃক পরিচালিত গণহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলায় পোল্যান্ডের একজন সংসদ সদস্যকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। পোলিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘সেজম’ (Sejm)-এর সদস্য কনরাড বেরকোভিচ অভিযোগ করেছেন যে, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতার প্রতিবাদ করায় তাঁকে আর্থিক জরিমানা এবং আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বেরকোভিচ জানান, পার্লামেন্টের স্পিকার (মার্শাল) ভ্লোজিমিয়ার্জ চারজাস্টি তাঁকে এই শাস্তি প্রদান করেছেন। সম্প্রতি পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে তিনি ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেন এবং একটি প্রতীকী প্রতিবাদের মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এর জের ধরে স্পিকার কেবল তাকে আর্থিক জরিমানাই করেননি, বরং তাঁর বিরুদ্ধে প্রসিকিউটর অফিসে অভিযোগও দাখিল করেছেন।
তবে এই শাস্তিতে দমে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই রাজনীতিবিদ। তিনি বলেন, “আমি এসবে ভয় পাই না এবং পিছপা হওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। আমি নিজেকে রক্ষা করব। রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কোনো দমন-পীড়নই আমার মুখ বন্ধ করতে পারবে না।”
গাজা পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বেরকোভিচ আরও বলেন, “চলুন আমরা চুপ থেকে তাদের (ইসরায়েল) ভিকটিম বা আক্রান্ত হিসেবে অভিনয় না করি। তারা আজ আক্রান্ত নয়, বরং তারা গাজার নিরপরাধ শিশু, নারী ও পুরুষদের ওপর চালানো গণহত্যার হোতা।”
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার সময় বেরকোভিচ একটি পরিবর্তিত ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শন করেন এবং গাজায় ইসরায়েলি অপরাধের কারণে দেশটির সাথে পোল্যান্ডের সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। তাঁর এই সাহসী অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিলেও নিজ দেশের পার্লামেন্টে তাঁকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।






