জ্বালানি সাশ্রয়ের যুক্তিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রবেশে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন দুপুর সাড়ে ১২টার আগে মসজিদ খোলা হবে না—এমন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় মসজিদের গেট তালাবদ্ধ এবং সেখানে বন্ধের নির্দেশনাসংবলিত লিফলেট টানানো রয়েছে। ইতিহাস বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এ এস নাদিম বলেন, “আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে আসা-যাওয়া করি, তারা ক্লাস শেষে বাস ছাড়ার আগের সময়টা মসজিদেই কাটাই। সকাল সাড়ে সাতটায় ক্যাম্পাসে এসে ক্লাস শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে একটু বিশ্রামের জন্য মসজিদই ভরসা। সংকট কেন শুধু শিক্ষার্থীদের ওপরই চাপানো হচ্ছে?”
তিনি আরও বলেন, “প্রশাসনিক ভবন, ক্যাফে কিংবা পরিবহনে এসি চালু থাকছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য মসজিদ বন্ধ রাখা হচ্ছে—এটা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে প্রশাসনিক ভবনের এসি বা লিফট বন্ধ রাখা যেতে পারে।”
আরেক শিক্ষার্থী হাফিজ আশিকুর রহমান আকাশ বলেন, “জবিতে কোনো হল, গেস্টরুম বা বিশ্রামের জায়গা নেই। ভোরে এসে ক্লাস করা শিক্ষার্থীরা একটু বিশ্রামের জন্য মসজিদের ওপরই নির্ভরশীল। সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব বলেন, “বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য মসজিদ বন্ধ রাখা কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয়। বিকল্প অনেক উপায় রয়েছে, সেগুলো আগে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।”
এদিকে, জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও জকসুর জিএস আবদুল আলিম আরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “এটি শুধু একটি তালাবদ্ধ দরজা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের কষ্টের প্রতীক। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলে মসজিদও খোলা থাকতে হবে।”
জকসুর ভিপি রিয়াজুল বলেন, “মসজিদ সার্বক্ষণিক বন্ধ রাখা শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর। আমরা উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি জোহরের নামাজের পর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছেন।” তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা মসজিদ কমিটির কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বার্তা বাজার/এস এইচ






