কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) মেডিকেল সেন্টারে দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের ও পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানের ঔষধ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেডিকেল সেন্টারে ‘হোয়াইট হর্স ফার্মাসিউটিক্যালস’ কোম্পানির ‘ডমিনল ১০’ ও ‘এসিপ্রো’ নামের দুটি ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ‘ডমিনল ১০’ গ্যাস্ট্রিক এবং ‘এসিপ্রো’ ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যতথ্য ও বিশ্লেষণভিত্তিক প্রতিষ্ঠান IQVIA–এর প্রকাশিত র্যাংকিং অনুযায়ী, হোয়াইট হর্স ফার্মাসিউটিক্যালসের অবস্থান বাংলাদেশে ২০ থেকে ৩০-এর মধ্যে।
এছাড়া, ২০১৬ সালে হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠানটিকে অ্যান্টিবায়োটিক (পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন), থাইরয়েড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ঔষধ উৎপাদন ও বিপণন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল।
এ বিষয়ে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসফিক জাহিন রাফি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ব্যবহৃত ঔষধের মান ও নির্ভরযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্ন র্যাংকিংয়ের কোম্পানির ঔষধ ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়। চিকিৎসার ক্ষেত্রে মানের সামান্য বিচ্যুতিও রোগীর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঔষধ ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না, কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে কি না এসব প্রশ্নও সামনে আসে, যা শিক্ষার্থীদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, “হোয়াইট হর্স ফার্মাসিউটিক্যালস আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে অনেক পিছিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে এই ধরনের ঔষধ রাখা উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, ‘এর পরিবর্তে দেশে সুপরিচিত ও গ্রহণযোগ্য কোম্পানির ঔষধ রাখা যেতে পারে, যেমন– বেক্সিমকো, স্কয়ার বা এসিআই।’
এ বিষয়ে মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আলী হাসান নেওয়াজ বলেন, ‘আমরা আপাতত এই কোম্পানির দুটি ঔষধ রেখেছি। আগে বেক্সিমকোর ঔষধ রাখা হতো, তবে তুলনামূলক কম দামের কারণে হোয়াইট হর্সের ঔষধ আনা হয়েছে, যা মেডিকেল প্রধানের অনুমোদনক্রমে করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘কখনো কখনো বড় কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত সরবরাহ দিতে না পারায় বিকল্প উৎস থেকে ঔষধ সংগ্রহ করতে হয়। তবে শিক্ষার্থীদের আপত্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঔষধ রাখা হবে না।’
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






