ঢাকা   বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

‘ইন্টারনেট বন্ধ করতে কত সময় লাগতে পারে মন্ত্রী পলক আমাকে জিজ্ঞেস করেন’

Authorনিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

‘ইন্টারনেট বন্ধ করতে কত সময় লাগতে পারে মন্ত্রী পলক আমাকে জিজ্ঞেস করেন’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্‌ল কোম্পানির (বিএসসিসিএল) তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা কামাল আহমেদ।

তিনি বলেছেন, তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আমাকে ফোন করেন এবং বিটিআরসির নির্দেশনা কেন প্রতিপালন করছি না তা জানতে চান। এছাড়া তিনি (পলক) সাবমেরিন লেভেলে ইন্টারনেট বন্ধ করতে কত সময় লাগতে পারে তা জিজ্ঞেস করেন। আমি তখন বলি আনুমানিক ১৫ মিনিট লাগবে। তিনি আমাকে ইন্টারনেট বন্ধ করে কনফার্ম করতে বলেন।

সাক্ষী বলেন, এরপর আমি আমার অধীনস্ত জেনারেল ম্যানেজারের (অপারেশনস) মাধ্যমে কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় সাবমেরিন ক্যাবল দুটি শাটডাউনের সরকারের সিদ্ধান্ত জানাই এবং ১৫ মিনিটের মধ্যেই সাবমেরিন দুটি শাটডাউন করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারিক প্যানেলে দেওয়া জবানবন্দিতে মির্জা কামাল আহমেদ এমন তথ্য জানান। মির্জা কামাল আহমেদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিটিসিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এই মামলার আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক। আর পলক গ্রেফতার হয়ে কারাগারে। আজ তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে জেরার জন্য আগামী ২৮ এপ্রিল দিন ঠিক করেছেন আদালত।

বিটিসিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত এই সাক্ষী তার জবানবন্দিতে বলেন, আমার নাম মির্জা কামাল আহমেদ। আমি বিটিসিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত। প্রেষণে বিএসসিসিএলে কর্মরত ছিলাম। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার পর ‘18th July ITC Operations’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলে বিটিআরসি। ওই গ্রুপে বিএসসিসিএলে প্রতিনিধি হিসেবে ডিজিএম আব্দুল ওয়াহাবকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সরকারি কোম্পানি হিসেবে বিটিসিএলের একজন প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন মাসুদকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গ্রুপে রাত ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিটিআরসির তৎকালীন ডিজি কাজী মোস্তাফিজুর রহমান একটি ভয়েস কলের মাধ্যমে ইন্টারনেট শাটডাউনের সরকারি সিদ্ধান্ত জানিয়ে নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, বিএসসিসিএলের প্রতিনিধি আব্দুল ওয়াহাব আমাকে বিষয়টি ফোনে অবহিত করেন। এছাড়া বিটিআরসিতে ‘IIG Operations’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু ছিল। যেখানে বিটিআরসির উপপরিচালক মেহেরীন আহসান একটি এসএমএসের মাধ্যমে সবাইকে ইন্টারনেট বন্ধ করে Done লিখে জানানোর নির্দেশনা দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের এই সাক্ষী আরও বলেন, আমি সাবমেরিন ও আইআইজি দুই স্তরেই ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে অবগত হয়ে অনেকটা অবাক হই। আমি ওয়াহাবকে শুধু আইআইজি লেভেলে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে সম্মতি দেই।

মির্জা কামাল আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিটিআরসির ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আমাকে মোবাইলে ফোন করেন এবং সাবমেরিন লেভেলে ইন্টারনেট বন্ধ করার নির্দেশ করেন। খানিকটা পর আব্দুল ওয়াহাব আমাকে জানান সকল আইটিসি অপারেটর এবং আইআইজি অপারেটর তাদের ব্যান্ডউইথ শাটডাউন করেছে। আমি তখন বিটিসিএলে কথা বলি। জানা যায় বিটিসিএলও তাদের আইটিসি এবং আইআইজি ব্যান্ডউইথ শাটডাউন করেছে। তখন শুধু সাবমেরিন কেবলের ব্যান্ডউইথ চালু ছিল এবং আইআইজি অপারেশনস গ্রুপে সাবমেরিনের ব্যান্ডউইথ বন্ধ না করার বিষয়ে বিভিন্ন অপারেটর কমেন্ট করছিল।

তিনি বলেন, একই তারিখ রাত ৯টার দিকে তৎকালীন জুনাইদ আহমেদ পলক আমাকে ফোন করেন এবং বিটিআরসির নির্দেশনা কেন প্রতিপালন করছি না তা জানতে চান। ওই বছরের ২৩ জুলাই বিটিআরসিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জুনাইদ আহমেদ পলক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশ্বস্ত করেন যে ২৩ তারিখ রাতের মধ্যেই ইন্টারনেট চালু করার সম্ভাবনা আছে। ওই রাতে আমি বিটিআরসি থেকে নির্দেশনা পাই সাবমেরিন লেভেলে ইন্টারনেট চালু করার জন্য। আমি যথারীতি রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে সাবমেরিনের ব্যান্ডউইথ চালু করি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০টার সময় বিটিআরসির তৎকালীন ডিজি মোস্তাফিজুর রহমান পুণরায় সাবমেরিন ব্যান্ডউইথ বন্ধের নির্দেশনা দেন। ওই দিন বেলা ১১টার দিকে সাবমেরিন ব্যান্ডউইথ বন্ধ করার ব্যবস্থা করি। পরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি সাবমেরিন চালু করার নির্দেশনা দেন। আমরা তখনই সাবমেরিন ক্যাবল চালু করি। তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এই আমার জবানবন্দি।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!