রূপালি পর্দার চাকচিক্য আর গ্ল্যামারের আড়ালে অনেক সময় ঢাকা পড়ে যায় হাড়ভাঙা খাটুনির গল্প। দর্শক মাল্টিপ্লেক্স বা ওটিটির পর্দায় শুধু দেখেন প্রিয় তারকার নতুন একটি চরিত্রকে। কিন্তু এ নতুন চরিত্রকে নিখুঁতভাবে পর্দায় তুলে ধরতে বেশ পরিশ্রম করতে হয় অভিনয়শিল্পীদের। যা আবারও প্রমাণ করলেন বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম।
সিনেমার চরিত্রের গভীরে মিশে যেতে একজন অভিনয়শিল্পীকে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে এনেছেন ‘হক’ সিনেমার পরিচালক সুপর্ণ ভার্মা। সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে ওটিটিতে মুক্তি পাওয়া আলোচিত চলচ্চিত্র ‘হক’-এর জন্য দেড় বছর শরিয়া আইন এবং পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করেছিলেন এ সিনেমার অভিনেত্রী ইয়ামি।
ইমরান হাশমি ও ইয়ামি গৌতম অভিনীত ‘হক’ সিনেমা এগিয়েছে একজন আইনজীবীর স্ত্রীকে কেন্দ্র করে। যিনি নিজের অধিকারের জন্য আদালতে দাঁড়িয়েছেন আইনজীবী স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে। সিনেমায় দেখানো হয়, একজন মুসলিম নারীর জীবনবোধ এবং ধর্মীয় অনুশাসনকে অনুধাবন। যার অনুভূতি পর্দায় পুরোপুরি তুলে ধরতে পবিত্র কোরআন শেখেন ইয়ামি।
প্রথম স্ত্রীর অনুমতিহীন স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে এবং ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের গল্প ‘হক’। সিনেমার ‘শাজিয়া বানো’ চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে ইয়ামি দর্শক জনপ্রিয়তা পান। পাশাপাশি ওটিটির শীর্ষে অবস্থান করে সিনেমাটি।
‘হক’ সিনেমার পরিচালক জানান, ইসলাম নিয়ে বর্তমান সময়ে ভুল তথ্যের যে বিস্তার, তা থেকে বাঁচতেই গবেষণায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করে সিনেমাটির টিম। সিনেমায় তিন তালাকের মতো বিতর্কিত বিষয় তুলে ধরে সমাজের ভুল ধারণাগুলো দূর করতে চাওয়া ছিল এ সিনেমার একটি উদ্দেশ্য। যে কারণে ‘হক’ কেবল একটি আবেগপ্রবণ গল্প না হয়ে যুক্তির বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে দর্শক মহলে।






