জাতীয় সংসদে অধিবেশন চলাকালে নিজের নির্ধারিত আসনে না গিয়ে পেছনের সারিতে বসে সংসদীয় রীতি মেনে চলার নজির স্থাপন করলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৯ এপ্রিল) অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন সংসদ নেতা। তবে নিজের নির্ধারিত আসনে যেতে হলে বক্তার সামনে দিয়ে অর্থাৎ স্পিকার ও বক্তার মাঝখান দিয়ে যেতে হতো। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী এটি শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তিনি তা না করে পেছনের সারিতে একটি আসনে বসেন।
পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, সংসদে ‘শৃঙ্খলা ও শালীনতা’ বজায় রাখার ক্ষেত্রে সংসদ নেতার এই আচরণ অন্য সদস্যদের জন্যও উদাহরণ হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আমরা মহান জাতীয় সংসদে সর্বদা একটা শৃঙ্খলা চাই। আজকে মাননীয় সংসদ নেতা যে ডিসেন্সি এবং শৃঙ্খলার নিদর্শন দেখিয়েছেন, আমরা অন্যান্য সম্মানিত সদস্য, মাননীয় সদস্য যারা আছি, তারা আমরা একটু অবজারভ করব।’
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আজকে মাননীয় সদস্য বক্তব্য রাখছিলেন। মাননীয় আইনমন্ত্রী, উনার সামনের আসন ছিল মাননীয় সংসদ নেতার, যেহেতু ফ্লোর ক্রসিং হয়ে যাবে, উনি তৃতীয়তে বসলেন। এইটা আমি একটা এক্সাম্পল দিচ্ছি টুয়ার্ডস অল দা আদারস অনারেবল মেম্বার। লেট আস লার্ন।’
উল্লেখ্য, সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৭(৪) উপবিধি অনুযায়ী, কোনো সদস্য কথা বলার সময় তার ও স্পিকারের মাঝখান দিয়ে অন্য সদস্যের যাতায়াত নিষিদ্ধ। এই বিধান মূলত বক্তব্যরত সদস্যের প্রতি সম্মান ও সংসদের মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। একই অধ্যায়ে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের অধিবেশনকক্ষে চলাফেরা, বসা, ওঠা এবং বক্তব্যের সময় এমন আচরণ করতে হবে যাতে কার্যক্রম ব্যাহত না হয় এবং চেয়ারের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






